শৈত্যপ্রবাহে গাইবান্ধায় জনজীবন বিপর্যস্ত

cold-1টানা শৈত্যপ্রবাহে গাইবান্ধায় জনজীবনে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে গৃহপালিত পশু-পাখিসহ প্রাণীকুল পড়েছে বিপর্যস্ত অবস্থায়। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে শীতে চরম অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন গরিব-অসহায়, ছিন্নমূল আর খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। পাশাপাশি অসহনীয় শীতে চরাঞ্চলের মানুষরাও পড়েছেন বিপাকে। শীতের হাত থেকে রক্ষায় কোনও রকম খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।
গত বুধবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ দিন দিন আরও বাড়ছে। এভাবে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকলে গাইবান্ধায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শীতের দুর্ভোগ আর অসহায়, ছিন্নমূলসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শীতবস্ত্র বিতরণে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজের সচেতন মানুষরা।
এদিকে, শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত নানা রোগ বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এসব রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু-বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন সদর হাসপাতালসহ ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। এছাড়া অনেকে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।cold-4
তবে শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস শুকুর জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়াও বহির্বিভাগে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্রসহ স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শীতজনিত রোগ বা শীতের কারণে কোথাও কারও মৃত্যুর খবর তিনি পাননি।
অপরদিকে টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে আলু, সরিষা ও বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এভাবে শৈত্যপ্রবাহ আর দুই-তিন চললে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আ.ক.ম রুহুল আমীন বলেন, ‘যেভাবে ঘনকুয়াশায় ফসলি জমি ঢেকে থাকছে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘনকুয়াশা অব্যাহত থাকলে আলু, সরিষা ও বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হবে। এতে কৃষরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’cold-2
জেলা শহরের খানকাহ্শরীফ এলাকার চা দোকানি সাজু মিয়া জানান, প্রবল শীতের কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি। গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য না থাকায় দুটি কাথা আর গতবারের একটি কম্বল গায়ে দিয়ে দিন কাটছে রাত। বেচাকেনা ভালো না থাকায় হাতে টাকা নেই তার। এ কারণে গরম কাপড়ও কিনতে পারছেন না তিনি।
শহরের স্টেশন রোডের শ্রমিক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঠাণ্ডার মধ্যে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া শীতের কারণে কাজও কমে গেছে অনেক। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে তাদের দিন যাপন করতে হচ্ছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘সরকারিভাবে উপজেলার শীতার্ত মানুষের জন্য সাড়ে ৬ হাজার কস্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব কম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু কম্বল বিভিন্ন অসহায় মানুষসহ এতিমখানা ও মাদ্রাসার ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’cold-3
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ পাল বলেন, ‘জেলার সদরসহ ছয় উপজেলার ৮২ ইউনিয়নের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আরও বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে গরিব-অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষসহ নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে গরম কাপড় বিতরণ করা হবে।’