বিদ্যালয়ের রাস্তায় বাঁশের বেড়া, ফেলা হয় আবর্জনা

 

রহমতপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তাগাইবান্ধার সদর উপজেলার রহমতপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিস করা হয়। তারপরও সমাধান হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও আজও কোনও প্রতিকার মেলেনি।

সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই রাস্তা দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ প্রতিদিন তিনটি পরিবার ও এলাকার অনেক মানুষ চলাচল করেন।

তাদের অভিযোগ, যুগের পর যুগ ধরে রাস্তা ব্যবহার হলেও কোন সমস্যা ছিল না। হঠাৎ করে প্রায় দেড় বছর আগে রাস্তার জমি নিজের দাবি করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর তিনি রাস্তাটি বাঁশ ও লোহার পেরেক দিয়ে ঘিরে ফেলেন। শুধু তাই নয়, রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখেন।

সপ্তম শ্রেণির সিনথিয়া সুলতানা বলেন, ‘আগে আমরা সবাই মিলে স্কুলে আসা-যাওয়া করতাম। কিন্তু এখন রাস্তাটি ছোট হওয়ায় আলাদাভাবে চলাচল করতে হয়। তাছাড়া দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনার মধ্যে চলাচলে খুব কষ্ট হয়।’

সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে রাস্তাটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু রাস্তাটি দখলে নেওয়ায় চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। তবুও বাধ্য হয়ে প্রতিদিন একমাত্র রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। দেড় বছর ধরে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার মানুষও।’

রহমতপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তাবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদল চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় মোস্তাফিজুরের বাবার কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছিল। সে জমিতে চলাচলের রাস্তা করা হয়। কিছুদিন পরই তার বাবা মারা যাওয়ায় জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে ওই জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে মোস্তাফিজুরকে বলা হয়। দিচ্ছি, দেব করে এক পর্যায়ে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানায় মোস্তফিজুর। পরে ২০১৬ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করে রাস্তাটি দখলে নেয় মোস্তাফিজুর। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হলে তিনি স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমঝোতা করেন। সমঝোতা মেনে নিয়ে মোস্তাফিজুর সে সময় লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি আবারও জমি দখলে নিয়ে বাঁশের বেড়া দেন। এরপর থেকে তিনি জমি দেবেন না বলে গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।’ 

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর কথা বলতে রাজি না হয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। 

জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘রাস্তা দখলের বিষয়টি আমি জেনেছি। সদর ইউএনওকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই বিষয়টি সমাধান সম্ভব হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলিয়া ফেরদাউস জাহান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়া লোকজনের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’