নকল করতে না দেওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ, কেন্দ্র ভাঙচুর

নকল করতে না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ভাঙচুরনকল করতে না দেওয়ায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাঙচুর চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর রায় ওই কেন্দ্রে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরীক্ষার্থীরা ইউএনও’র গাড়িও ভাঙচুর করে।

ইউএনও দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে কড়াকড়ি আরোপের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। তারা কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর, শিক্ষকদের মোটরসাইকেল এবং আমার সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করে। এ সময় আমিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

কেন্দ্র সচিব ও যাদুরচর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হক বলেন, “যাদুরচর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার ৭৮ জন পরীক্ষার্থী গণিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরুর কিছু সময় পর ইউএনও স্যার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পুরো সময় পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে বের হয়ে বলতে থাকে, ‘এত কড়া গার্ড কেন, আবারও খাতা দিয়ে লেখার সুযোগ দিতে হবে।’ এই বলে তারা ভাঙচুর শুরু করে।”

এই শিক্ষক আরও জানান, আটটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিলেও ভাঙচুর করেছে মূলত সিজি জামান উচ্চবিদ্যালয় ও রৌমারীর শিক্ষার্থীরা।

ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুরইউএনও দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘অতীতে এই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অসদুপায় ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেন। তাই এবার হল পরিদর্শকদের নির্দেশনা দেওয়া ছিল যাতে কোনও পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে। হয়তো এই ক্ষোভ থেকেই পরীক্ষার্থীরা এমন আচরণ করে থাকতে পারে। পরীক্ষায় কাউকে বহিষ্কারও করা হয়নি, পরীক্ষা শেষে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ভাঙচুর শুরু করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় পাবলিক পরীক্ষার সময় অপরাধ আইন ১৯৮০ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম পারভেজ জানান, পরীক্ষায় কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি। পরীক্ষার্থীরা কোনও কারণ ছাড়াই অতর্কিত ভাঙচুর শুরু করে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।