আগে প্রতি বিরা পান (৬৪টি) ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে এ সব পান বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। এদিকে বাজারে প্রতি খিলি পানের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আগে প্রতি খিলি পান আড়াই টাকা করে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকা করে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার হিলিতে মূলত আমন ও বোরা ধান চাষাবাদ হয়ে থাকে। তবে লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এখন পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সীমান্তবর্তী হিলির ঘাসুরিয়া, মংলা, নন্দিপুর, বালুপাড়া আর মাধবপাড়া গ্রাম জুড়ে পানের চাষাবাদ হচ্ছে। এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে অধিক সংখ্যক ছোট বড় পানের বরজ। উপজেলায় ২৮ হেক্টর জুড়ে পানের চাষাবাদ রয়েছে।
তারা আরও জানান, গাছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিলেও কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে এখন বরজগুলোতে কোনও পান নেই। এ কারণে বাজারে পানের সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া দাগ পড়া পানগুলো এক থেকে দেড়শ’ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচই না ওঠায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কিছু পান একটু ভালো রয়েছে। বাজারে পানের চাহিদা থাকার কারণে সেগুলো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে পান ক্রেতা জাহাঙ্গির হোসেন ও শিশির জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পানের বাজারে যেন আগুন ধরে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও বাজারে পানের ব্যাপক সরবরাহ ছিল, এখন বাজারে পানের সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারে তখন প্রতি বিরা পান বিক্রি হতো ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। এখন সেই পান বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে। এতে করে বিরা প্রতি পানের দাম বেড়েছে চার গুণ বা তারও বেশি। এছাড়া বাজারেও পান তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. শামীমা নাজনীন বলেন, ‘উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমিতে পানের বরজ আছে। এবার অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে পানে কিছু ছত্রাকজনিত সমস্যা হয়েছে। এছাড়া পানের পাতা ঝড়ে গেছে এবং কাণ্ড পচা রোগ হয়েছে। আমাদের মাঠকর্মী যারা রয়েছেন তারাসহ আমরা নিজেরা কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। পানে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করার ও জীবানুনাশক সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। এসব সার ব্যবহার করলে পানে ছত্রাকজনিত রোগবালাই অনেক কম হবে।’