আলোচনা ছাড়াই ধর্মঘটের ডাক: দাবি রংপুরের বাস মালিকদের

রংপুরেও চলছে বাস ধর্মঘটআশপাশের অন্য জেলার বাস মালিকদের সঙ্গে কোনও কথা না বলেই বগুড়ার বাস মালিকরা ধর্মঘট দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন রংপুরের পরিবহন নেতারা। তারা জানান, ধর্মঘটের ব্যাপারে তারা একাত্মতাও প্রকাশ করেছেন। এদিকে আকস্মিক বাস ধর্মঘটের কারণে রংপুরের যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।  

ঢাকা ও বগুড়ার পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বের জের ধরে আজ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে রংপুরের সঙ্গে ঢাকাগামী সব বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়া পরিবহন মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শাহ্‌ ফতেহ্‌ আলী পরিবহনের কোচ চলাচল নিয়ে ঢাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বগুড়ার মালিকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বগুড়ার মালিক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সোমবার রাত থেকে ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি। ফলে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন বাস মালিকরা।

তবে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতি এবং রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘটকে সমর্থনও করেনি, আবার নাও করেনি। এ ব্যাপারে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘এটা বগুড়ার সমস্যা। তারা আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাও করে নাই।’ একই কথা জানান রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির নেতা মামুন।

এ ব্যাপারে আগমনী বাস কাউন্টারের ম্যানেজার অনিল চন্দ্র বলেন, ‘বগুড়ার ওপর দিয়ে আমাদের ঢাকায় যেতে হয়। বিকল্প আর কোনও পথ নেই। ফলে তারা ধর্মঘট আহ্বান করায় আমাদের করার কিছুই থাকে না।’

এদিকে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস ধর্মঘট ডাকায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় যাওয়ার আগাম টিকেট কেটে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। নগরীর লালবাগ থেকে আসা বাস যাত্রী লায়লা হাসান অভিযোগ করেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস যাবে না। এভাবে যাত্রীদের জিম্মি করে বাস বন্ধ রাখা চরম আমনবিক।’ একই কথা জানান নগরীর মুন্সিপাড়ার জোনায়েদ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বৃহস্পতিবার ঢাকায় একটি চাকরির ইন্টারভিউ আছে। কিন্তু এখন যেতে পারছি না।’