শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাত্র ২০টি আসন রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন হাসপাতালে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। ফলে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালে ভর্তি নুর আলম সাজু বলেন, ‘হঠাৎ করেই শুক্রবার বিকাল থেকে বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি। বাধ্য হয়ে সকালে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।’
স্বপ্না নামে এক শিশুর মা বলেন, ‘হঠাৎ করেই তার তিন বছরের শিশুটি বমি করতে থাকে। পরে বমির সঙ্গে শুরু হয় পায়খানা। ঘনঘন বমি ও পায়খানার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। হাসপাতালে ভর্তির পর স্যালাইন দিয়েছে কিন্তু এখনও কোনও উন্নতি হয়নি।’
গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির প্রাথমিক কারণ হিসেবে পানি দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে পৌর এলাকার গভীর নলকুপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য ঢাকা থেকে আসা আইসিডিডিআর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়া পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি ঘটে তাই অতিরিক্ত বেডসহ বেশকিছু প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ওষুধ, স্যালাইনের কোনও সংকট নেই। তবে এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে ফুটানো পানি পান ও খাবারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতায় শহরে লিফলেট ও মাইকিং করা হচ্ছে।’
গত বুধবার (২৮ মার্চ) থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক রোগী। পাশাপাশি তিন দিনে বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও শতাধিক রোগী। এছাড়া নিজ বাড়ি এবং স্থানীয়ভাবেও আরও অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।