বুধবার (১১ এপ্রিল) মধ্যরাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৯২৯/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছাকাছি ভারতের কুচবিহার জেলার ওই বাসিন্দারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনার পরপরই টহল জোরদার রেখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডলে তাদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
নাওডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের গোরকমন্ডল এলাকার ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রাণভয়ে যারা রাতেই বাংলাদেশে এসেছে, তাদের সীমান্তের কিছু কিছু বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।’
ফুলবাড়ী সীমান্তের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি গোরকমন্ডল বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রেজাউল করিম জানান, ভারতীয় কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানা এলাকায় একজন পঞ্চায়েত নিহত হওয়ার ঘটনায় কিছু ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা সীমান্তে টহল জোরদার রেখেছি।
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কমান্ডার বলেন, ‘যারা প্রবেশের চেষ্টা করেছে, আমরা তাদের পুশব্যাক করেছি।’
খারিদা হরিদাস গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শহিদুল হক, একই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে শাহিন মিয়া, মোহাম্মদ আলীর ছেলে বদরু মিয়া, আব্দুল আজিজের স্ত্রী শফিয়া বিবি ও আশরাফ আলীর স্ত্রী বেনু বিবির ভাষ্য, ‘খারিদা হরিদাস গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) মাদার দলের পঞ্চায়েত মো. আবু হোসেন মিয়াকে একই দলের যুব সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা বুধবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেগুনবাগানে হত্যা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই টিএমসি মাদার দলের কর্মীরা এসে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে রাতেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছি।’
বর্তমানে ভারতীয় ওই পরিবারগুলোর সদস্য মো. আশরাফ আলী, মো. শাহিন মিয়া, বদরু মিয়া, জহুরুল হক, মনসুর আলী, বাবলু মিয়া, আব্দুল মালেক, ফজলু রহমান, জামাল উদ্দিন, সফিয়া বিবি, এশমা বিবি, বেনু বিবি, ভারতীয় খারিদা হরিদা ভোরাম জুনিয়র হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পিংকি খাতুন, ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী আর্বিনা খাতুন, গৃহবধূ হালিমাসহ অনেকে বাংলাদেশের গোরকমণ্ডল এলাকার নামাটারী ও উচাটারী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।
তারা জানান, পিংকি খাতুন ও আর্বিনা খাতুনের পরীক্ষা চলছে। কিন্তু তারা দেশে যেতে পারছে না।
গোরকমন্ডল সীমান্তের বাংলাদেশি অধিবাসী আবেদ আলী, লিলিমা বেগম, আমির আলী জানান, শুনেছি ভারতের খারিদা হরিদাস গ্রাম পঞ্চায়েত নিহত হয়েছেন। ফলে দুই দলের মধ্যে মারামারি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই কারণে তারা ভয়ে পালিয়ে এসেছে। তারা ভারতীয় হলেও সবাই আমাদের প্রতিবেশী। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।