আইনজীবী রথিশ হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

মিলন মোহন্ত (মাথায় হেলমেট পরা)রংপুরের বিশেষ পিপি আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা হত্যা মামলার আসামি মিলন মোহন্ত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে তিনি মারা যান। তিনি আইনজীবী রথিশের সহকারী ছিলেন। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সালেকুজ্জামান এই আসামির মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক রংপুর নগরীর আলমনগর বাবুপাড়া মহল্লার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পরের দিন পুলিশ বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ৩ এপ্রিল রাতে নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়া মহল্লার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব। ওই ঘটনায় বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার সহকর্মী কামরুল ইসলামকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

৫ এপ্রিল রাতে মিলন ভৌমিককে পুলিশ রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু মিলন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরের দিন মিলন কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মিলন মারা যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মিলন ভর্তি হওয়ার দিন থেকেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। আজ মিলন মোহন্তের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরেই তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে মিলনকে আটক করার পর পুলিশ প্রথমে তাকে বাবু সোনা হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে উল্লেখ করেনি। ওই সময় কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল হোসেন জানিয়েছিলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তিনি বাবু সোনার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন বলে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য থানায় আনা হয়েছে।

পরে পুলিশ জানায়, নিহত বাবু সোনাকে হত্যার অন্যতম আসামি দীপা ভৌমিক মিলনের নামে কেনা মোবাইল সিম দিয়ে তার প্রেমিক কামরুলের সঙ্গে কথা বলতেন। যেহেতু দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল দুজনেই বাবু সোনাকে হত্যা করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডের আগে অনেকবার মিলনের কেনা সিম দীপা ভৌমিক ব্যবহার করেছেন সে কারণে ৫ এপ্রিল মিলন মোহন্তকে বাবু সোনা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে মিলন মোহন্তকে আটক করার পর তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে জানার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই কল রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন- 

‘জঙ্গিদের ওপর দায় পড়বে, ভেবেই রথিশকে হত্যা’

আইনজীবী রথিশ হত্যা: আদালতে দীপা ভৌমিকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

টাকার লোভেই হত্যা করা হয় রথিশকে, জবানবন্দিতে কামরুল