গ্রেফতার হওয়া দুই ভাই হলেন— শিবলী সাদিক ওরফে প্রদীপ (৩০) ও মো. সাগর (২৪)। তারা দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের কলিমুদ্দিনের ছেলে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার আরেক আসামী নূর মোস্তফা লাবু ওরফে সুমনকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলার জসিমবাজার দোলাপাড়া গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে জোড়া খুনের শিকার হন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ব্যবসায়ী মামুনুর রশীদ মামুন (৩৫) ও তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিনতারীন সাথি (২৩)। জানা যায়, সাথি একই উপজেলার পরাভিটা গ্রামের মহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মামুনের মামাত বোন ছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় মামুনুর রশীদের বড় ভাই আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এ ঘটনায় জড়িত উপজেলার পোড়ারহাট তেলিপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে নূর মোস্তফা লাবু ওরফে সুমনকে (২৫) গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার গ্রেফতার করা হয় প্রদীপ ও সাগরকে।
ঘটনার দিন সকালে সাথীকে বাসায় রেখে মামুন বাজার করতে যান। এরই মধ্যে মামুনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য তিন আসামি মিলে সাথিকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। সাথি চিৎকার করতে থাকলে তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর বিছানায় চাদর দিয়ে লাশ ঢেকে রাখে। পরে মামুন বাসায় ফিরলে তাকেও জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে আসামীরা। তাতে রাজি না হওয়ায় মামুনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে মামুনের মোটরসাইকেল নিয়ে আসামীরা পালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, মামুন দিনাজপুর পার্বতীপুর উপজেলার নূতনবাজার এলাকার মৃত মনছুর আলীর ছেলে। তিনি ওই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দিনাজপুর জেলা জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিবাহিত মামুন ছিল তিন কন্যার জনক।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, সৈয়দপুর থানার ওসি শাহাজান পাশা, জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।