গত ১০ দিন ধরে বিভাগীয় নগরী রংপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২ মে) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত নগরীর ভিভিআইপি এলাকা বাদে পুরো নগরী ছিল বিদ্যুৎবিহীন। এরপর বিদ্যুৎ আসলেও এক ঘণ্টা পর লোডশেডিং শুরু হয়। এভাবে চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এরপর থেকে টানা লোডশেডিং চলছে। সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে। এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট বড় কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া নগরীর শপিং মল আর মার্কেটগুলো বিদ্যুতের অভাবে ব্যসায়ীরা তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছেন না।
অন্যদিকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র প্রেসক্লাব , জাহাজ কোম্পানি মোড় , সিটি বাজার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ নেই।
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সালাম ও সোলায়মান আলী জানান, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হলে তো দোকানদারি করা যায় না। আইপিএস চার্জ দেওয়ারও সময় পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় বাইরে অলস সময় কাটাচ্ছেন তারা।
একই কথা জানালেন জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী শাহাজাহান আলী সহ অনেকে।
অন্যদিকে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন দিন ধরে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে রংপুর থেকে প্রকাশিত ১২টি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাঘাত ঘটছে। এ ব্যাপারে দৈনিক সাইফ পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহাম্মেদ জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে কোনও কাজ করা সম্ভব হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পক্ষে পত্রিকা বের করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে আজ পিডিবির রংপুর বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদত হোসেনেরে সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, কোথায় লোড শেডিং? তিনি বলেন, ‘এখনই তো বিদ্যুৎ দেয়া হলো।
তিনি যখন এসব কথা বলছেন তখন নগরীর রাম মোহন মার্কেট, থেকে প্রেসক্লাবসহ নগরীর অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুত ছিল না। এসব তাকে জানালে তিনি দাবি করেন, জাতীয় গ্রিডের সমস্যার কারণে একটু লোডশেডিং হচ্ছে।