দিনাজপুরে শুরু হয়নি টিসিবি’র পণ্য বিক্রি

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশসারাদেশে রবিবার (৬ মে) থেকে শুরুর কথা থাকলেও দিনাজপুরে শুরু হয়নি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি। টিসিবির ডিলাররা বলছেন, গত বছরের লোকসান এবং এবার টিসিবির পণ্যমূল্যের চেয়ে বাজারে তুলনামূলক দাম কম থাকায় তারা টিসিবি’র পণ্য উত্তোলন করেননি। আর টিসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ছুটি থাকায় ডিলাররা পণ্য উত্তোলন করতে না পারায় শুরু হয়নি পণ্য সরবরাহ। দিনাজপুর জেলায় ৩০ জন ডিলারের মধ্যে কেউই উত্তোলন করেননি টিসিবির পণ্য।

দিনাজপুর শহরের অন্যতম টিসিবির ডিলার কানাই লাল গুপ্ত জানান, গতবছর টিসিবির পণ্য বিক্রি করে আসল তো দূরের কথা লোকসান গুনতে হয়েছে তাকে। তাছাড়া এবার টিসিবির পণ্যমূল্যের চেয়ে বাজারে তুলনামূলক দাম কম। এজন্য টিসিবির পণ্য বিক্রি করলে এবারও লোকসান গুনতে হবে-এমন আশঙ্কায় টিসিবি থেকে পণ্য উত্তোলন করেননি তিনি।

তিনি আরও জানান, টিসিবির নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনি-৫৫ টাকা, বুট-৭০ টাকা, মসুর ডাল-৫৫ টাকা, খেজুর-১২০ টাকা এবং প্রতি লিটার সোয়াবিন তেল-৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি চিনি-৫৮ টাকা, বুট-৬০ টাকা, মসুর ডাল-৪৫ থেকে ৫০ টাকা, খেজুর-৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এই হিসেবে রংপুর থেকে টিসিবির পণ্য তুলে এনে পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে দিনাজপুরে বিক্রি করলে এবারও লোকসান গুনতে হবে।

এদিকে টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান মো. মিশকাতুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রংপুর বিভাগে টিসিবির মোট ৩৪৯ জন ডিলার। আর দিনাজপুর জেলায় টিসিবির ডিলারের সংখ্যা ৩০ জন।’

এই ৩০ জনের ডিলারের মধ্যে কেউই টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেননি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন সরকারি ছুটি ছিল। রবিবারই প্রথম অফিস খুলেছে। তাই হয়তো দিনাজপুরের কেউই পণ্য উত্তোলন করতে পারেননি।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অবশ্যই প্রত্যেক ডিলারই পণ্য উত্তোলন করলে দিনাজপুর জেলার ভোক্তারা টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে।’
বাজারমুল্য ও ডিলারদের লোকসান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজিতে ডিলাররা কমিশন পান ৪ টাকা ৫০ পয়সা। তাই টিসিবির পণ্য বিক্রি করে ডিলারদের লোকসান খাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া বাজারের পণ্যের তুলনায় টিসিবির পণ্যের মান ভালো হওয়ায় টিসিবির পণ্যের চাহিদা আছে।’