ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ইরি-বোরো ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে, যা অর্জিতও হয়েছে। তবে উৎপাদিত ধান নিয়ে বিভিন্ন মোকামগুলোতে ঘুরেও কেউ ধান নিতে চাচ্ছেনা। কেউ কেউ মণ প্রতি ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা করে দাম বলছে। যেখানে গত বছরে প্রতি মণ ধান এক হাজার থেকে এগারোশ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে।এ কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত আমন মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে হিলিতে ৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদিত ধান থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিকটন। ইতোমধ্যে ৯০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় এবং ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ধানের ফলন বিপর্যয় হয়েছে। তবে দিনাজপুরের হিলিতে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হিলিতে ইরি-বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়াও নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ থাকার কারণে সেচ কাজে কোনও সমস্যা না হওয়ার এবারে ভালো ফলন হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।
হিলির ছাতনি চারমাথা গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ও জাহাঙ্গির আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্লাস্ট রোগ এবং ঝড় ও শিলা বৃষ্টির কারণে ধানের ফলন বিপর্যয় হলেও হিলিতে চলতি বছরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ করে ধান উঠছে। তবে ধানের ভালো ফলন হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ধান নিয়ে বিভিন্ন মোকামগুলোতে ঘুরেও কেউ ধান নিতে চাচ্ছেনা। কম টাকায় বিক্রি করায় কৃষকদের লোকশান হচ্ছে।
সাইফুল ইসলাম নামের এক কৃষক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাঠে এখন যে ধান রয়েছে সেসব ধান আরও সাত থেকে দশ দিন থাকতে পারতো। তবে বৈরি আবহাওয়া এবং শিলাবৃষ্টির আশঙ্কার কারণে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে করে অনেক কৃষকই মাঠ থেকে আধা পাকা ধান শ্রমিককে বেশি টাকা দিয়ে কেটে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা অর্জিত হয়েছে। তবে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না। কৃষকরা যদি ধান শুকিয়ে রাখেন তবে তারা দাম পেতে পারেন। এছাড়াও আমাদের দফতরের মাধ্যমে সরকারকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার ধান কেনা শুরু করলে দাম বাড়বে বলে আশা করছি।