বেশি লাভ করতে গিয়ে মাথায় হাত চাল ব্যবসায়ীদের

হিলি বন্দরে আটকা পড়া চালবেশি লাভের আশায় কম শুল্কে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত কয়েক দিন কয়েক গুণ বেশি পরিমাণে চাল আমদানি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে বন্দর থেকে চাল খালাস করতে পারেননি তারা। কম শুল্কে চাল আমদানি করা চাল এখন তাদের খালাস করতে হবে নতুন বাজেটে আরোপিত বাড়তি শুল্কে। ফলে বাড়তি লাভের আশায় চাল আমদানি করে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গত ৪ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল এক অনুষ্ঠানে  বলেন, চালের ওপর আগের মতো ২৮ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে। যা বাজেট পেশের দিন থেকেই কার্যকর হবে। এমন ঘোষণার পর বন্দর দিয়ে আমদানিকারকরা দ্রুত চাল রফতানির জন্য ভারতীয় রফতানিকারকদের অনুরোধ জানিয়ে বেশি পরিমাণে চাল আমদানি করেন।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,বন্দর দিয়ে আগে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ ট্রাক চাল আমদানি হয়। বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর ৪ জুন ২৯ ট্রাক, ৫ জুন ১০৯ ট্রাক এবং ৬ জুন ২৩৮টি ট্রাক চাল আমদানি করা হয়েছে। আর ৭ জুন বন্দর দিয়ে ৫ ট্রাক চাল আমদানি হয়েছে।

হিলি বন্দরে আটকা পড়া চালের ট্রাক

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন জানান, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে হিলি স্থলবন্দরের যেসব আমদানিকারকরা চাল আমদানির জন্য এলসি ওপেন করেছিলেন তারা সবাই এলসির বিপরীতে দ্রুত চাল রফতানি করতে ভারতীয় রফতানিকারকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ফলে বন্দর দিয়ে চাল আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশন হওয়ায় বুধবার (৬ জুন) বিকাল থেকেই সার্ভার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করেও বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। ফলে কম শুল্কে চাল খালাসের আসায় আমদানি করলেও সেসব চাল বন্দরে আটকা পড়ে গেল। বন্দরের ভেতরে প্রায় বিভিন্ন আমদানিকারকের কয়েক‘শ ট্রাকের মতো চাল আটকরা পড়ে গেছে। এসব চাল বাড়তি শুল্কে বন্দর থেকে ছাড় করতে হবে। তার ওপর আজ শুক্রবার ছুটি। বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পণ্য খালাস করা যাবে না। এতে করে গত তিন দিন ধরে পণ্য আটকা থাকার কারণে বন্দরকে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিটন চাল ৩৯০ ডলার মূল্যে আমদানি হচ্ছে। এর ওপর আরোপিত ২ ভাগ শুল্ক অনুযায়ী প্রতি কেজি চালে শুল্কবাবদ পরিশোধ করতে হচ্ছে ৭১ পয়সা। যা টনপ্রতি ৭ হাজার ১৫০ টাকা করে। নতুন করে আরোপিত ২৮ ভাগ শুল্কের ফলে প্রতি কেজিতে ৯ টাকা ৬১ পয়সা করে কেজি প্রতি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এতে করে আমদানিকৃত চাল নতুন করে শুল্কহার পরিশোধের কারণে লোকশান গুণতে হবে। আমরা ২ ভাগ শুল্ক হিসেব করে সে হিসেবে পড়তা থাকায় চাল আমদানি করেছি। নতুন রেটে চাল আমদানি করে পড়তা না থাকায় বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

হিলি বন্দরে আটকা পড়া চালের ট্রাক

এদিকে, হিলি বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী অনুপ কুমার বসাক জানান, চালের আমদানি পর্যায়ে শুল্ক বাড়ার এমন খবরে গত তিন দিন ধরে হিলি স্থলবন্দরের কোনও আমদানিকারক চাল বিক্রি করেননি। তারা শুল্ক বাড়ার খবরে চাল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে চালের দাম কেজি ৫ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিন দিন আগে প্রতিকেজি স্বর্ণা জাতের চাল প্রকারভেদে ৩৫ থেকে সাড়ে ৩৫ টাকা  এবং রত্না জাতের চাল ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিল। এসব চাল বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে ৫ ও ৬ জুন  হঠাৎ করে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বেড়েছে। গতদু’দিনেই বন্দর দিয়ে ৩৪৭টি ট্রাকে  প্রায় ১২ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। তবে কাস্টমসের সার্ভার বন্ধ থাকায় বন্দরের ভেতরে অনেক চালবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। বর্তমানে বন্দরের ভেতরে ২৫৭টি চাল ট্রাক বোঝাই আটকা রয়েছে।