স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

গাইবান্ধা জেলাঢাকার মুগদা এলাকার ভাড়া বাসায় গাইবান্ধার মেয়ে নাজনীন আকতারকে (২৮) শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে। সোমবার (২৫ জুন) এ ঘটনা ঘটে। আরও অভিযোগ উঠেছে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার (২৬ জুন) ভোরে গোপনে লাশ দাফনের চেষ্টা করেন সেলিম। পরে জানাজানি হলে নিহতের লাশ উদ্ধার করে তার স্বজনদের কাছে পাঠায় পুলিশ। এরপর থেকে সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন সেলিম।

নিহত নাজনিন আকতার গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া গ্রামের মংলু প্রামাণিকের মেয়ে। অভিযুক্ত সেলিম মিয়া পাতিল্যাকুড়া গ্রামের আলহাজ জমির উদ্দিন মুন্সির ছেলে। তিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকার একটি ব্যাংকে কর্মরত। 

নিহতের বাবা মংলু প্রামাণিকের অভিযোগ, ‘মাদক সেবনে সেলিমকে বাধা দেওয়ায় নাজনিনকে অমানবিক নির্যাতনের পর সোমবার সকালে গলা টিপে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাজনিন স্ট্রোক করেছে বলে অপপ্রচার চালায় সেলিম। পরে মঙ্গলবার ভোর রাতে আমাদের না জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছায় সেলিম মিয়া। পরে খবর পেয়ে গোপনে লাশ দাফনের চেষ্টা করলে বাধা দেই আমরা।  খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।’

তিনি আরও বলেল, ঘটনা প্রকাশের ভয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে ঘাতক সেলিম। দুই সন্তানকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার সত্যতা মিলবে। এছাড়া দ্রুত সেলিমকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে সেলিম মিয়া জানান,সোমবার সকালে স্ত্রীকে বাসায় রেখে অফিসে যান তিনি। এরপর স্ত্রী নাজনীন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসার লোকজন দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মৃত্যু হয় নাজনীনের। স্ট্রোক করে নাজনিনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় চিকিৎসক। হাসপাতালে নাজনীনের মৃত্যুর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে আছে। তিনি নিজ বাড়িতে আছেন আর দুই সন্তান ঢাকায় তার বোনের কাছে আছে বলেও দাবি করেন সেলিম।

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দীন বলেন, ‘নিহতের গলার নিচে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত সেলিমকে আটক ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।