তিস্তা নদী এলাকায় ১৩ ইউনিয়নে বন্যার আশঙ্কা

ওয়াটার লেভেললালমনিরহাটের গড্ডিমারী ইউনিয়নের তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রমত্তা তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা নদীর দুই ধারে নিম্মঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে রবিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে ভারতের গজল ডোবা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে দেওয়ার কারণে ভাটিতে পানি বেড়ে যায়। এজন্য লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোড্ডিমারীর তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাটও খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ‘তিস্তা নদীর তিস্তা ব্যারাজের উজানে বিকাল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ডেঞ্জার লেভেলের মাত্র দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাতের মধ্যে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য তিস্তা নদী বিধৌত এলাকাগুলোতে বসবাসরত লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। অপরদিকে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা নদী বিধৌত বন্যা কবলিত ইউনিয়ন গুলো হলো-পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্ণা, সানিয়াজান, গোড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর, গোকুন্ডা ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে।

তিস্তা ব্যারাজহাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাস বলেন,‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও বন্যা দেখা দেয়নি। শুনেছি তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়তে পারে। পানি বৃদ্ধি পেলে হয়তো বন্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্যা মোকাবিলার জন্য প্রশাসনেরও প্রস্তুতি রয়েছে।’

গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এজন্য বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, ‘তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তিস্তা নদী বিধৌত সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’