সাজু মিয়া জানান, তোফা-তহুরার চিকিৎসার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া চেক জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে। একাউন্টে তোফা-তহুরার চিকিৎসার জন্য দেওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংকের ১ লাখ ও মেঘনা ব্যাংকের ৫০ হাজার টাকার চেক জমা করেছি।
ব্যাংক ব্যবস্থাপক এ এইচ এম রাশেদুল ইসলাম জানান, তোফা-তহুরাসহ বাবা-মায়ের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব (হিসাব নম্বর-১৫৬৭২) খুলে দেওয়া হয়। তারা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুটি চেকও জমা দিয়েছেন।
মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘তোফা-তহুরা অনেক ভালো আছে। বর্তমানে নানার বাড়িতে আনন্দে দিন কাটছে তাদের। দুজনে হাঁটছে, খেলছে। নিয়মিত বুকের দুধ খাচ্ছে। পাশাপাশি অন্য খাবারও খাচ্ছে। ক্যাথেটার দিয়ে তহুরাকে প্রসাব করাতে হচ্ছে। এছাড়া আর কোনও সমস্যা নাই।’ তোফা-তহুরার জন্মের ৬ মাস আগে থেকে শাহিদা বেগম তার বাবা শহিদুল ইসলামের বাড়িতে আছেন বলে জানান।
সর্বশেষ ঢাকায় টানা সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়িতে ফিরেছে তোফা-তহুরা। কিন্তু বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গরমে দুই বোন প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। সে কারণে বিশেষ নির্দেশনায় গত ৯ মার্চ তোফা-তহুরার নানার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। তোফা-তহুরার কারণে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ায় এলাকাবাসীও আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তোফা-তহুরাকে দেখতে এসে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগকে তোফা-তহুরার বাড়িতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আদেশ দেন। ওই সময় ইউএনও গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে তাদের বাড়িতে ৫০ ওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ লাগিয়ে দেন।
বাড়িতে ফিরলেও নিয়মিত তোফা-তহুরার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনূর ইসলাম। তাদের দু’জনকে ভালো রাখতে সবসময় মোবাইলফোনে মা শাহিদা বেগমকে পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানার বাড়িতে তোফা ও তহুরার জন্ম হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাদেরকে ৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর তাদের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়।
২০১৭ সালের ১ আগস্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য করা হয় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। পরে সুস্থ হলে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফেরে তোফা-তহুরা। আবারও তহুরা অসুস্থ হলে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর তহুরাকে ঢাকায় নেওয়া হলে সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে ফেরে জমজ দু’বোন তোফা-তহুরা।