ধর্ষণ মামলায় প্রভাষকের যাবজ্জীবন

 

প্রভাষক আব্দুল মোতালেবধর্ষণ মামলায় পাটগ্রাম সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক আব্দুল মোতালেবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত। একই সঙ্গে তাকে জরিমানার ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা দেওয়া হয়। সোমবার (২ জুলাই) বিচারক মো. রেজা আলমগীর আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ৭ আগস্ট পাটগ্রাম সরকারি কলেজে যোগদানের ৪ ঘণ্টা পর থেকে ওই প্রভাষক হাতীবান্ধা থানার একটি ধর্ষণ মামলায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছে বলে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

বিচারক মো. রেজা আলমগীর বলেন, ‘৩৩তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ পান আব্দুল মোতালেব। ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট যোগদানের তারিখ থেকে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত আছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে প্রতিবেশী একটি মেয়েকে ধর্ষণ করার মামলায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এখন রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।’

সাজাপ্রাপ্ত প্রভাষক আব্দুল মোতালেব লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বেজগ্রাম এলাকার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

জানা যায়, আসামি মোতালেব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন প্রতিবেশী লোকমান হোসেনের মেয়েকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় লোকমান বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) আবুল কালাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মোতালেবের বিরুদ্ধে । চার বছর পর ধর্ষণ মামলার রায় দেন বিজ্ঞ বিচারক।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) ও লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকমল হোসেন আহমেদ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ময়েজুল ইসলাম ময়েজ এই মামলাটির শুনানি করেন।

জানতে চাইলে অ্যাডভোকে ময়েজুল ইসলাম ময়েজ বলেন, ‘আব্দুল মোতালেব একটি সাজানো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি বিজ্ঞ আদালতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’

পাবলিক প্রসিকিউটর আকমল হোসেন আহমেদ বলেন, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামি প্রভাষক আব্দুল মোতালেবের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার দিন থেকে আসাসির সাজা কার্যকর শুরু হয়েছে।’

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ের বাবা লোকমান হোসেন রায়ের প্রতিক্রিয়া বলেন, ‘আসামির ফাঁসি প্রত্যাশা করেছিলাম কিন্তু তা পাইনি। তাই বলে আমি বিজ্ঞ আদালতে অসুন্তষ্ট নই।’