ডিমলায় ঘূর্ণিঝড়ে ২২ জন আহত, ৩৪টি ঘর বিধ্বস্ত

 নীলফামারীনীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তাপাড়ের পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ফুলছড়িপাড়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়া ঘরের নিচে চাপা পড়ে ২২ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এক মিনিট স্থায়ী ওই ঝড়ে ৩৪টি ঘর ভেঙে ও উড়ে গেছে।

ফুলছড়িপাড়ার আজিমুদ্দিন (৪৪) জানান, আজ দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। এক মিনিট স্থায়ী এ ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের ফুলছড়িপাড়ার অনেক ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় ঘরের নিচে পড়ে কমপক্ষে ২২ জন আহত হয়েছে। চিৎকার শুনে পাশের এলাকা থেকে লোকজন ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

আহতদের মধ্যে সাতজনকে ইউনিয়ন স্থাস্থ্যকেন্দ্র ও ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন সরবেশ আলী (৫৩), ছমির উদ্দিন (৩১), মোমেনা বেগম (২৮), হাজেরা বেগম (৬৮), জহুরা বেগম (৫০), রাবেয়া বেগম (৫০), আজফর আলী (৫২)।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে আমরা চর ও নিচু এলাকার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছিলাম। এ সময় হঠাৎ ১ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে ফুলছড়িপাড়ার ১৯টি পরিবারের ৩৪টি বাড়ি দুমড়মুচড়ে যায়। কারো কারো ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকাটি তৈরি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হবে।’

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নদীর তীরবর্তী চর ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর ঘরে ঘরে পানি ঢুকেছে বলেও জানানো হয়েছে।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি হু-হু করে বাড়ছে। এ কারণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।’

উজানের ঢলের বন্যায় তিস্তার চরের টেপাখাড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব ছাতনাই, নাউতারা, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারীসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার ইউনিয়নের ঝাড়সিংশ্বের এলাকার পাঁচশ’ পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘চরখড়িবাড়ি এলাকার বাড়িগুলোতে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সেখানে বসবাসকারী এক হাজারের বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,‘মঙ্গলবার বিকাল ৩টার পর্যন্ত ওই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।’