ভারতীয় ট্রাক চালকদের বাধায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বন্ধ

হিলি স্থলবন্দর

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো পণ্য আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে আটকে থাকা আমদানিকৃত চালগুলো দ্রুত খালাসের দাবিতে ভারতীয় ট্রাক চালক ও সহকারীদের বাধার মুখে এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের অভ্যন্তরের কার্যক্রম চালু রয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে হিলি সীমান্তের শুন্য রেখার পাশে বন্দরের প্রধান সড়কে ভারতীয় ট্রাক চালক ও সহকারীরা অবস্থান নেয়। এ কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে আমদানি রফতানি বন্ধ থাকায় ভারত থেকে আনা পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ পণ্যবাহী কয়েকশ’ ট্রাক আটকে আছে। যা নষ্ট হয়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা।

ভারতীয় ট্রাকের চালক ও সহকারীরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ প্রায় এক মাস বা তার চেয়ে বেশিদিন হতে চললো আমরা ভারত থেকে চালবাহী ট্রাক নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে ঢুকেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত চালগুলো খালাস করা হচ্ছে না। এদিকে আমাদের টাকা পয়সা শেষ হয়ে যাওয়ায় খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়ে আমারা বিপাকের পড়েছি। এদিকে আমাদের ভারতেও যেতে দিচ্ছে না।

তারা আরও বলেন,‘আমাদের ট্রাকের চালগুলো খালাস না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভারত থেকে কোনও পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না আবার বাংলাদেশ থেকেও কোনও ট্রাক ভারতে যেতে দেব না।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মামুনুর রশীদ লেবু ও হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ৭ জুন নতুন বাজেট ঘোষণার আগেই ৬ জুন যে সব চালের এলসি ওপেন করেছিলাম সেগুলো বন্দরে ঢুকাই। যথারিতী সেসব চালের শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য ছাড়করনের জন্যও কাস্টমসে বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করতে গিয়ে দেখি কাস্টমসের সার্ভার আউট হয়ে গেছে। তবে সার্ভার যদি আপডেট করার জন্য আউট হতো তাহলে সার্ভারের সব লাইন বন্ধ হতো কিন্তু শুধুমাত্র এন্ট্রি পদ্ধতি বন্ধ করা হলো কিসের জন্য। এতে করে আমাদের ২ ভাগ শুল্কে আমদানি করা প্রায় ৮ হাজার টন চাল বন্দরে আটকা পড়েছে।

তারা আরও বলেন, ‘(৭ জুন) বাজেটের পর যেসব চাল আমদানি করা হবে সেসব চাল আমরা ২৮ ভাগ শুল্কেই বের করতে রাজি আছি। তবে বাজেটের আগে যে সব চাল আমদানি করেছি সেগুলো কেন আমরা ২৮ ভাগ শুল্কে ছাড় করবো। তাই আমরা পণ্য ছাড়করন বন্ধ রেখে কাস্টমস এবং এনবিআরের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এক মাসের মতো সময় ধরে মালগুলো পড়ে আছে কেউ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা হাইকোর্টে রিট করেছি হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই ১০ দিনের রুল জারি করছেন, ১০ দিন পরেই রিটের যে ফলাফল আসবে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব। এছাড়াও আমরা চালগুলো ভারতীয় ট্রাক থেকে খালাস করে বন্দরে রাখতে চাই কিন্তু বন্দরের শেডে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুল্ক জটিলতার কারণে প্রায় এক মাস  ধরে ২০৯টি ট্রাকে প্রায় ৮ হাজার টন চাল আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব খালাস না হওয়ায় বন্দরে পণ্যজট সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া ভারতীয় ট্রাক চালক ও সহকারীরা সীমান্তের শুন্যরেখায় বন্দরের প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে এ নিয়ে আমরা ভারতীয় ট্রাক চালক ও সহকারীদের আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টগনের সাথে আলোচনার কথা জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।