লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদক সেবনের দায়ে সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা, তিন স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ছয়জনকে সাত দিনের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও হাতীবান্ধার ইউএনও নুর কুতুবুল আলম এ কারাদণ্ড দেন।
এর আগে রবিবার মধ্যরাতে ওই উপজেলার নাওদাবাস ইউনিয়নের জোসনার বাজার এলাকা থেকে তাদের স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে রনজিত চন্দ্র নামে এক পথচারী আহত হয়। দুই পুলিশ সদস্যও এ সময় আহত হয়েছে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার রায়হানুল কবির ও হাবিবুর রহমান, একই ব্যাংকের পিয়ন শাহরিয়ার হোসেন, রংপুরের তাকিয়া শরিফ দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল হাকিম, বাগপুর মাসুম আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অভিনাশ চন্দ্র ও মতি চন্দ্র রায়।
লালমনিরহাটের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, ওই এলাকায় ৮/১০ জন বহিরাগত যুবক মাদক সেবন করতে আসে। মাদক সেবন করে ফেরার সময় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে গণধোলাই দিতে থাকে। খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুকসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি ছোড়ে। এতে রনজিত নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ সময় আজাহার হোসেন ও হারুন নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরে মাদক সেবনকারীদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
সোমবার দুপুরে তাদের হাতীবান্ধার ইউএনও নুর কুতুবুল আলমের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত মাদক সেবনের দায়ে প্রত্যেককে ৭ দিনের করে কারাদণ্ড দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতীবান্ধার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম বলেন,‘মাদক সেবনকারী যিনিই হোন না কেন, এই বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’