কোরবানি ঈদের জন্য হিলিতে ১০ হাজার গরু প্রস্তুত করছেন খামারিরা

কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করছেন খামারিরাআসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের হিলির পশু খামারিরা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস, খৈল, ভুষি খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন খামারিরা। তবে তারা যে হারে ব্যয় করছেন সেই অনুযায়ী দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত। এছাড়া কোরবানির জন্য ভারত থেকে যেন বৈধ অবৈধ কোনও পথ দিয়েই গরু না আসতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন খামারিরা। এসব গরু না আসলে খামারিরা কিছুটা লাভবান হবেন বলেও জানিয়েছেন।

কোরবানির ঈদকে ঘিরে হাকিমপুর উপজেলায় ৪৪৫ জন ছোট বড় খামারি গরু লালন-পালন করছেন। খামারিরা বলেন, হাকিমপুর উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে গরুর মজুত রয়েছে। এসব গরু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানির জন্য মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। যেমন খড়,কাঁচা ঘাস,খৈল, ভুষি খুদের ভাত এসব খাওয়ায়ে গরুকে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও গম, ভুট্টা, ধান মিশ্রণ করে ভূষি তৈরি করে সেগুলো গরুকে খাওয়ানো হয় এভাবেই গরুগুলোকে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের পরামর্শে তাদের দেওয়া তথ্যমতে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও সামনে ঈদের কারণে গরুর প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে যেন দু’টি টাকা বাড়তি পাওয়া যায়। তবে যে হারে গোখাদ্যের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে তাতে করে বর্তমানে বাজারে যে দামে গরু বিক্রি হচ্ছে তাতে করে আমরা খামারিরা শংকিত। এছাড়াও বাজারে যে পরিমাণ গরুর চাহিদা রয়েছে তা আমাদের উৎপাদিত গরু দিয়েই মেটানো সম্ভব। তাই আসন্ন কোরবানিকে ঘিরে ভারত থেকে যেন কোনোভাবেই বৈধ বা অবৈধপথে দেশে গরু না আসতে পারে এজন্য সরকারের নিকট অনুরোধ জানাই। যদি ভারত থেকে গরু না আসে তাহলে আমরা খামারিরা কিছুটা লাভবান হতে পারবো। এতে করে সামনের দিকে আরও খামারি যারা গরু মোটাতাজাকরণে উৎসাহিত হবে।

কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করছেন খামারিরাএছাড়াও তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন গরুমোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট আসলেও তারা এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করেন না। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানের অতি মুনাফালোভী কিছু খামারি রয়েছেন যারা অল্প সময়ের মধ্যে এসব ট্যাবলেট খাওয়ায়ে গরুকে মোটাতাজাকরণ করে হাটে বেচছেন। তাদের কারণে তারাও গরুর সঠিক দাম পাই না। তাই সরকারকে এসব রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. নাসিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও হাকিমপুর উপজেলার খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণ করে আসছে। আমাদের খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে দানাদার খাদ্য কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। আমরা নিয়মিত তদারকি করে থাকি, তাদেরকে নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া হিলি সীমান্ত এলাকা হওয়ার কারণে এখানে সীমান্ত দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট এসে থাকে যা আমাদের তদারকির কারণে হিলির খামারিরা কোনও ধরনের নিষিদ্ধ ট্যাবলেট খাওয়ায়ে গরু মোটাতাজা করেন না। আমরা আশা করছি এবারেও খামারিরা যেভাবে গরু লালন পালন করছেন তাতে করে ভারত থেকে যদি গরু না আসে তাহলে খামারিরা এবারেও বেশ লাভবান হবেন।’

কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করছেন খামারিরা

তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে যেসব গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট প্রাকটিন ও ডেক্সিন ট্যাবলেট আসে সেসব ট্যাবলেট যাতে কোনও খামারি ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য আমরা কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছি খামারিদের। এসব ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব ট্যাবলেট সংরক্ষণ করা ও পরিবহন করা এবং গরুকে খাওয়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা খামারিদের উঠান বৈঠকসহ সরেজমিন খামারে গিয়ে তাদের এ বিষয়ে সচেতন করছি।’