এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটক এবং চালককে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
নিহত স্কুলছাত্র জীয়নের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম জাহিদুল ইসলাম। তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। জীয়ন নগরীর ঘাঘটপাড়া এলাকায় মেঘলা নামে একটি বেসরকারি ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করতো।
পুলিশ জানায়, রবিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণি ছাত্র জীয়ন সাইকেলে বাজার থেকে ওষুধ কিনে ছাত্রাবাসে ফেরার পথে গাইবান্ধা থেকে রংপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা ৮/১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, বাস চালককে গ্রেফতারের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এ অবস্থায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে জীয়নের লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নিয়ে গেছে। ৫ ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে আবার যান চলাচল শুরু হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোখতারুর রহমান জানান, পুলিশ অনেকবার লাশ মর্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, চালককে আটক করা হয়েছে। বাসটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। বাসের নাম ভাইবোন পরিবহন। আটক চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।