পুলিশ সিটি করপোরেশন কর্তপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এসময় মেয়র রংপুর সিটি করপোরেশনের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন্য ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নগরীর ৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাঁটানো হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মেয়রের ছবি ছিল। যে ৬টি স্থানে বিল বোর্ড লাগানো হয় সেগুলো হচ্ছে- নগরীর জাহাজ কোম্পানির মোড় , ডিসির মোড়, মর্ডান মোড়, শাপলা চত্বর , লালবাগ ও মেডিক্যাল মোড়। কিন্তু ঈদের ছুটির মধ্যে আকস্মিকভাবে ৬ বিল বোর্ড হাওয়া হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে সিটি মেয়র মোস্তফা নিজেই কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। তিনি জিডিতে বিল বোর্ডগুলো চুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাতে নগরীর বেতপট্টিতে অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফিয়া খানমসহ অন্য নেতারা।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের পুত্রবধূ হিসেবে অনেক আগে থেকেই এখানকার উন্নয়নের সব দায়িত্ব তিনি নিজেই নেন। তারই অংশ হিসেবে রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় , বিভাগ, মেট্রোপলিটান পুলিশ , মহানগরে ৬টি থানা, ৪ লেন রাস্তা, আন্তর্জাতিক মানের মহিলা স্টেডিয়ামসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সেজন্য রংপুরবাসী তার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই শোকের মাস ও ঈদুল আযহা শেষ না হতেই রংপুরের জনগণ কষ্ট পেয়েছে। কারণ রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১০ কোটি বরাদ্দ দেওয়ায় সাঁটানো বিল বোর্ড সিটি করপোশেন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই খুলে ফেলেছে। অথচ তারা এখন বলছে এসব নাকি চুরি হয়েছে।
মহানগর সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘এসব বিল বোর্ড মেয়র মোস্তফার নির্দেশে সরানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তার কারণ ২৫ আগস্ট এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না এটা মেয়র বলতে পারেন। এরপর দুদিন পর নিজেকে রক্ষার জন্য মেয়র সাহেব থানায় জিডি করেছেন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় ফলে সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করে দেখা হোক কারা বিল বোর্ড সরিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। সেই সঙ্গে সরিয়ে ফেলা বিল বোর্ড আবারও নতুন করে স্থাপন করার দাবি জানিয়েছে তারা।
এ ব্যাপারে সিটি মেয়র মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিল বোর্ড গায়েব হবার ঘটনায় আমি নিজেই থানায় জিডি করেছেন। যেহেতু আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিল বোর্ড লাগিয়েছি সেখানে তা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
অপরদিকে কোতোয়ালি থানার ওসি মোখতারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেয়র কর্তৃক জিডি করার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।