গাইবান্ধা জজ আদালতের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন জানান, ত্রাণের টিন আত্মসাত মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ছয়মাসের অন্তবর্তীকালিন জামিনে ছিলেন চেয়ারম্যান ফজলুল করীম। মঙ্গলবার সকালে আইনজীবির মাধ্যমে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানী শেষে জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন, জুলাই মাসে কয়েক দফায় প্রচন্ড ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে পলাশবাড়ীতে ব্যাপকভাবে গাছপালা, বাড়িঘর ও জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ঢেউটিন বরাদ্দ দেয়। উপজেলার নয় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে টিন দেওয়া হয়। কিন্তু বেতকাপা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দের অধিকাংশ টিন আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। চেয়ারম্যান ফজলুল করীম সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করে তাদের বরাদ্দের টিন নিজ বাড়িতে রাখেন। পরে এসব টিন ঘরে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই ইউএনও আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে পিআইওসহ একদল পুলিশ চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির ঘরের চাল ও বারান্দায় ত্রাণের টিন ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। পরে স্থানীয়দের সহায়তা মিস্ত্রি ও গ্রাম পুলিশ ঘরের চাল ও বারান্দায় লাগানো ছয় বান্ডিল (৪৮ পিচ) টিন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসের প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম রাসেল বাদী হয়ে ত্রাণের টিন আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেন।