কুড়িগ্রামে ১০ টাকা দরের চাল বিক্রি শুরু হয়নি

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কথা থাকলেও কুড়িগ্রামে শুরু হয়নি। কুড়িগ্রামের কোনও উপজেলাতেই এই কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিক্রি শুরু হয়নি। এখনও এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনাও পাননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডিলাররা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, চিলমারী, রাজারহাট ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা) মো. রাশেদুল হক প্রধান জানান, আমরা এখনও এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পাওয়া মাত্র এ কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিক্রি শুরু করা হবে।

রাজারহাট উপজেলার ওমরমজিদ ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনও চাল উত্তোলনের নির্দেশনা সম্বলিত কোনও চিঠি পাইনি। চিঠি না পেলে কীভাবে চাল উত্তোলন করবো।’

কর্মসূচির আওতাভুক্ত ডিলারদের চিঠি না দেওয়ার প্রসঙ্গে রাজারহাট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মধুসূদন বর্মন বলেন, ‘আমরা এখনও কোনও চিঠিপত্র পাইনি। কোনও নির্দেশনা না পেলে ডিলারদের কীভাবে চিঠি দেবো।’

চিলমারী উপজেলার ডিলার মাজেদুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘আমরা ৫ সেপ্টেম্বর চাল উত্তোলন করে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে চাল বিক্রি শুরু করবো।’

এই উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইউনুছ আলী বলেন, ‘ব্যাংক বন্ধ থাকায় ডিলাররা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে না পারায় এখনও কোনও ডিলার চাল উত্তোলন করতে পারেননি। ব্যাংক খুললে ডিলাররা টাকা জমা দিয়ে চাল উত্তোলন করবেন এবং তা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হতদরিদ্রদের মাঝে বিক্রি শুরু হবে।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘রৌমারী উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি শুরু হয়নি। এখনও এ সংক্রান্ত কোনও পত্র আমরা পাইনি।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ বলেন, ‘সরকারি ছুটি থাকায় এখনও এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহেই এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।’

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিরন্ন মানুষের জন্য ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও নভেম্বর এই ৫ মাস সারাদেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়। বছরের এই মাসগুলোতে শ্রমজীবী মানুষগুলোর কাজের অভাব থাকে। ফলে এই পাঁচ মাস তাদের ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে ১ লাখ ২৫ হাজার ২শ ৭৯টি পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় চাল পাচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজিতে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে।