খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রংপুরে বিএনপির বিক্ষোভ, পুলিশের বাধা

01বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বিএনপির বিদ্রোহী অংশ। তারা বিশাল মিছিল করে তাদের অবস্থধান জানান দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এর আগে রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। দুপুর ১২ টা থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে মিছিল করে আসার সময় পুলিশ তাদের দফায় দফায় বাধা দেয়।

জানা গেছে, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শামসুজ্জামান শামু ও যুগ্ন সম্পাদক আনিসুর রহমান লাকুর নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে মূল সড়কে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ আবারও তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের মিছিলের গতিরোধ করলে সেখানে বিএনপি নেতাদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ের রাস্তায় একটি ছোট ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন নেতারা।

এতে বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শামসুজ্জামান শামু, যুগ্ন সম্পাদক আনিসুর রহমান লাকু, যুবদলের মহানগর সম্পাদক লিটন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা, পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনসহ অনেকে।

সমাবেশে বিএনপি নেতা শামু পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ করে বলেন, ‘এরপর আমাদের মিছিল করতে না দিলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হবে। তখন পুলিশ কত জায়গায় আমাদের বাধা দেবে দেখা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মিছিল করতে দিন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করবো, এটা আমাদের অধিকার।’

সমাবেশে অন্যান্য নেতারা অবিলশ্বে খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে বিএনপির বিদ্রোহী অংশের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি জেলা ও মহানগর বিএনপির কোনও নেতাকে দেখা যায়নি। শনিবার জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করলেও সেখানে অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর ঢাকা থেকে কোনও সম্মেলন বা কাউন্সিল ছাড়াই জেলা ও মহানগর বিএনপি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটিতে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান শামুকে সিনিয়র সহ সভাপতি করা হয়। এ ছাড়াও জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক নেতাকে পদাবনিত করে ছোট পদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ চলে আসছিল। ফলে শামুর নেতৃত্বে দলের একটি বৃহৎ অংশ জেলা ও বিএনপির কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। তারা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে।