ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২১ অক্টোবর ইউনিয়ন তিনটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার বিলুপ্ত চার ছিটমহল নিয়ে ইউনিয়ন তিনটির সীমানা জটিলতা ছিল।
২০১৬ সালে ছিটমহল বিলুপ্তির পর ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতে সীমানা জটিলতার মামলায় স্থগিত হয় নির্বাচন।
ফলে ছিটমহল বিলুপ্তির তিন বছর পর নয়া বাংলার নাগরিকরা এবার প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ের জিগাবাড়ি ছিটমহলের নাগরিক রফিকুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ‘আমরা নাগরিকত্ব পেলেও মামলা জটিলতায় অপূর্ণ ছিল ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা। তিন বছরের অধিক সময় অপেক্ষার পর এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছি।’
চলতি মাসের ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিলে বলা হয়, ওই তিন ইউনিয়নে স্থগিত সাধারণ নির্বাচন যে পর্যায় থেকে স্থগিত করা হয়েছিল সে পর্যায় থেকেই আগামী ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর আপিল, ৩ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তি, ৪ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ৫ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ হবে। এরপর ২১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের চারটি ছিটমল বিলুপ্ত হলে ইউনিয়ন তিনটিতে সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়। সে মামলার কারণে ২০১৬ সালের ঘোষিত তফসিল স্থগিত হয়। ওই জটিলতা নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুনভাবে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তারা সবাই এবারে ভোট দিতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৬ সালের তফসিলে অনেকেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। সে সময়ের মনোনয়নপত্র থাকবে, এছাড়াও নতুন কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে চাইলে সেটাও নেওয়া হবে।’