রিমান্ডে নেওয়া চার জন হলেন– কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার কৃষ্ণপুর দক্ষিণ ডাকুয়া পাড়া গ্রামের মুকুল মিয়া (৩২), একই গ্রামের সবুজ মিয়া (৩০), সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধুলাউরা গ্রামের মমিন মিয়া এবং একই ইউনিয়নের পূর্ব কল্যাণ ভোগরাম এলাকার মো. সাজু মিয়া (২৯)।
ওসি বলেন, ‘আটক চারজনকে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত পুণরায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুন্নবী বলেন, ‘আটকদের প্রথম দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই দুই শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অধিকতর তদন্তের জন্য আটকদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। মূলত দুই শিক্ষার্থী হত্যার রহস্য উদঘাটনের প্রয়োজনে আটকদের আবারও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ’
এদিকে ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দুই শিক্ষঅর্থীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও জানান, হত্যার আগে সেলিনা নামে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার আলামত পাওয়া গেছে। তবে সেটা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ কিনা তা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কুড়িগ্রামের বিসিক শিল্প এলাকায় রেললাইনের পাশে নালিয়ার দোলায় একটি পরিত্যক্ত সেচ পাম্প ঘরের পাশ থেকে জাহাঙ্গীর আলম (১৬) ও সেলিনা (১৪) নামে দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জাহাঙ্গীর আলম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পূর্ব কল্যাণ (নাগদার পাড়) গ্রামের বাসিন্দা ও কুড়িগ্রাম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির ছাত্র এবং সেলিনা কুড়িগ্রাম পৌরসভার ডাকুয়াপাড়া গ্রামের জাবেদ আলীর মেয়ে ও আমিন উদ্দিন আহমেদ দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।