দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণ হবে সোনাহাট সেতু

দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত আগের বেইলি ব্রিজকুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট সেতু নির্মাণ করা হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ কমিটি (একনেক) গত ২ অক্টোবর প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন বলেন, ‘এই বছরের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। ২০১৯ সালের শুরুতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।   ২০২১ সালের জুন মাসে কাজ সম্পন্ন হবে। ফলে সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ সম্ভব হবে।’

তিনি জানান, জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার পূর্ব দিকে  উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত সাড়ে ৪শ মিটার দৈর্ঘ্যের পুরনো সোনাহাট ব্রিজ  (সাবেক রেল ব্রিজ) থেকে ১শ ২০ মিটার ভাটির দিকে (দক্ষিণে) নতুন এই সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৬শ ৪৫ দশমিক ০.১৫ মিটার। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২শ ৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন জানান,পাইল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মোট ১৫টি পিলার ও  ১৪টি স্প্যানের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এই সেতুর ধরন হবে পিসি গার্ডার সেতু। সেতুর ভূরুঙ্গামারী ও সোনাহাট প্রান্ত মিলে ২.১ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও এর আশে-পাশে বনায়ন তৈরির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এছাড়াও এ প্রকল্পে ওয়ে স্কেল থাকবে।

সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে সোনাহাট স্থল বন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানি স্থবিরতা কেটে ওঠার পাশাপাশি ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ বিড়ম্বনার অবসান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুধকুমার নদের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সোনাহাট স্থল বন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, বর্তমান সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর অভাবে স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করতে তেমন ভরসা পান না। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে বাইরে থেকে কোনও ক্রেতা বন্দরে পণ্য ক্রয় করতেও আসতে চান না। নতুন সেতু নির্মাণ হলে বন্দরে বাণিজ্য বৃদ্দি পাবে, সরকার রাজস্ব পাবে। পাশাপাশি দুধকুমার নদের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ইউনিয়নগুলোর কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগ ভোগান্তি দূর হবে।

জাতীয় শ্রমিক লীগ, সোনাহাট ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডল জানান, সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের খবরে বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা ছাড়াও এ অঞ্চলের জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা খবর শোনার পরপরই এলাকায় আনন্দ মিছিল হয়েছে। এই সেতু নির্মাণ হলে বন্দরের বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দরকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী শ্রমিকদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। তারা নিয়মিত রোজগারের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট জামান আহমেদ জানান, সেতুর অভাবে স্থলবন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে বাইরে থেকে কোনও ব্যবসায়ী বন্দরে ব্যবসা করতে আসতে চান না। এই সেতু নির্মাণ হলে আবারও গতি পাবে স্থলবন্দরের কার্যক্রম।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন জানান, প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, সহানুভূতিশীল। তার প্রতিশ্রুত এই সেতু নির্মাণের খবর শুধু কুড়িগ্রাম নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জন্যও সুখবর। এর ফলে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ অঞ্চলে শিল্প বিকাশে সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক হবে এই সেতু।

লিংকন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, এই যোগাযোগ উন্নয়ন সেটাকে আরও তরান্বিত করবে। এটা নিশ্চিত রূপে কুড়িগ্রামবাসীর জন্য আনন্দের ও আশান্বিত হওয়ার মতো খবর।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের খবরে উত্তরের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী জানান, এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায়  প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি এই সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানাই। পরে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী কথা রাখেন, তিনি কথা রেখেছেন। কুড়িগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।