সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনাজপুরের মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। আর কদিন পরেই ফুল আসা ধানগাছগুলো রূপ নেবে সোনালী ফসলে। ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ ধান গাছেই শীষ বের হয়েছে। তবে ফসলের মাটিতে নেই পর্যাপ্ত রস। যাতে করে এসব শীষের ধান পরিপূর্ণ হতে পারবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলেন, গাছে ধান পরিপূর্ণ হওয়ার এই সময়ে তারা পুরোটাই বৃষ্টির ওপর নির্ভর করেন। তবে এ বছর আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে বৃষ্টি নেই দিনাজপুরে। খরার কারণে ফসলের মাটি ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা সেচযন্ত্র দিয়ে ক্ষেতে পানি দিতে শুরু করেছেন।
জেলার বিরল উপজেলার আজিমপুর গ্রামের সম্ভু লাল রায় বলেন, ‘আমন ধান মেশিন দিয়ে পানি দিতে হয়, এমনটি এর আগে ছিলো না। তবে গত কয়েক বছর ধরেই এই এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গেছে। এবার চরম খরার মধ্যে পড়েছে আমনক্ষেত। রোপণ করার সময়ও সেচ দিতে হয়েছে, শীষ আসার এই সময়ও সেচ দিতে হচ্ছে। যাতে করে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’
একই এলাকার সুমন বলেন, ‘প্রতি বছরই ধান ওঠার সময় কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এবারে যাতে করে উৎপাদন খরচটি বিবেচনায় রেখে মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়।’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, ‘এবারে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হয়েছে। তাই ফসলের ওপর বিরুপ প্রভাব না ফেলতে খরার কবলে পড়া ধানের জমিতে সেচসহ বাড়তি পরিচর্যা দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই মোতাবেক কৃষকরা সেচযন্ত্রের মাধ্যমে ফসলে পানি দিচ্ছেন।’ এতে করে উৎপাদনে কোনও ব্যঘাত ঘটবে না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এই সময়টাতে ক্ষেতে পানি থাকলে ধানের ভালো উৎপাদন হবে ‘ চলতি বছরে দিনাজপুর জেলায় এবার ২ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।