নীলফামারীতে আ.লীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী

নীলফামারী

নীলফামারীর চারটি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির ও জাতীয় পার্টির ৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র (ফরম) সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৮ জন, বিএনপির ১৫ জন ও জাতীয় পার্টির ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ৩৮ জনের মধ্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১১ জন, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ৪ জন, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ৬ জন, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১৭ জন রয়েছেন।

আবার, বিএনপির ১৫ জনের মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে (ডোমার-ডিমলা) ৪ জন, সদর-২ আসনে ২ জন, নীলফামারী-৩ আসনে ৩ জন, নীলফামারী-৪ আসনে ৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয়ভাবে জমা দিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকতেই পারে এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিতে পারেন। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। এতে কারও কোনও আপত্তি নেই। তবে এ ক্ষেত্রে দল বা দলীয় প্রধানরা সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে টিকিট দিবেন। দল যাকেই মনোনয়ন দিবে, আমারা তার সঙ্গেই কাজ করে যাব।’

অপরদিকে, জেলা জাতীয় পাটির চারটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে (ডোমার ডিমলা) ৩ জন, নীলফামারী সদর আসন-২ এ একজন, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ৩ জন ও নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ সৈয়দপুর) আসনে ৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।

জেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ যাকে মনোনয়ন দিবেন আমার তার সঙ্গেই কাজ করবো। এতে কোনও সন্দেহ নেই। যতই একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করুক না কেন টিকিট পাবে হেবী ওয়েট প্রার্থীরাই।’

নীলফামারী-১ আসনে (ডোমার ডিমলা) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১১ জন। সূত্র জানায়, তাদের মধ্যে বেশি ভাগই হেবি ওয়েট প্রার্থী। এলাকার ভোটারদের সহযোগিতায় হেবিওয়েট প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতেই এমনটা হয়েছে।

একই আসনে একাধিক প্রার্থীর ফরম তুলার কারণ জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এটা প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ যদি নির্বাচন করতে চায় ও ফরম তোলে তাদের নিষেধ করার কিছুই নেই। তবে দল বা দলীয় প্রধান যাকে মনোনয়ন দিবেন এবং যারা মাঠে ময়দানে কাজ করবেন তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে। যারা দলের দুর্দিনে পাশে থেকেছে এবং জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছে তারাই প্রার্থীতা পাবেন।

তিনি আরও বলেন,‘আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দলীয় সিদ্ধান্তে এক হয়ে কাজ করবো। এখানে বিদ্রোহী কিম্বা সতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন,‘একই আসনে একাধিক ফরম তুললেও ভোটে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। কারণ একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম তুললেও প্রার্থী হবেন এক জনই। কেউ বিদ্রোহী বা সতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক বলেন,‘দলে একাধিক প্রার্থী হলেও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। উনিই ঠিক করবেন কাকে মনোনয়ন দিবেন। যারা সুবিধাবাদী ও এলাকার মানুষের জন্য কিছুই করেননি তারাও ফরম তুলে জমা দিয়েছেন। তাতে লাভ কি তারা এমনিতেই বাদ পড়বে।’

এতে ভোটের মাঠে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। যারা প্রকৃতই আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন তারা কখনই দলের ক্ষতি করে এমনটা করবেন না।’

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুসফিকুল ইসলাম বলেন,‘জেলার চার আসনে একাধিক প্রার্থী থাকার পেছনে রাজনৈতিক নেতৃত্বে ত্রুটি থাকতে পারে। যা রাজনীতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। সম্বয়হীনতার কারণে দলের প্রভাব পড়ে। ভোটের মাঠে নেতাকর্মীদের পিছিয়ে থাকা এক ধরণের পরাজয়।’

তিনি আরও বলেন,‘সঠিক প্রার্থীকে মূল্যায়ন না করে প্রার্থী দিলে, তা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ সব দলের নেতারা বলছেন, মনোনয়ন প্রত্যাশী যেই হউক না কেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারা নিজ নিজ দলকে জেতানোর জন্য হাতে হাত রেখে ভোটের মাঠে কাজ করবে।