এলজিইডি সাদুল্যাপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধাপেরহাটের বউবাজার থেকে ছত্রগাছা গ্রামের আধা কিলোমিটার ও তরফবাজিত গ্রামের ১ কিলোমিটার পাকা করার কাজ চলছে। এ কাজ করছে ইনটেক্স ইন্টারনেট ও মের্সাস মাহমুদুন্নবী ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে বউবাজার-ছত্রগাছা সড়কের কাজ এ ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও তরফবাজিত গ্রামের সড়কটির কাজ করছে রফিকুল ইসলাম বাবলু নামের এক ঠিকাদার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকে তরফবাজিত গ্রামের সড়কে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হয়। সড়কে যে ইট ফেলানোর পর তা গুড়া হয়ে যায়। এছাড়া বউবাজার সড়কের ময়লা-ধুলাবালি আর মাটির ওপরেই তড়িঘরি করে নিম্নমানের পাথর মেশানো এবং ইটের খোয়া দিয়ে কার্পেটিং কাজ করা হচ্ছে। পিচ নেই বললেই চলে। পিচ ঢালাইয়ের আগে সড়কে বিটুমিন মিশ্রিত প্রাইম কোর্ড ব্যবহারের নিয়মও মানা হচ্ছে না। ফলে পিচঢালাই দিতে না দিতেই তা উঠতে শুরু করেছে।
তরফবাজিত গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নিম্নমানের ইট ও বালু ফেলে কাজ চলছিল সড়কটিতে। যেভাবে কাজ করা হচ্ছে তাতে কিছুদিন পরেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দে বাড়বে সড়কে। এতে চলাচলের আগের মতোই ভোগান্তি পোহাতে হবে জনসাধারণকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভাবশালী হওয়ায় এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অনিয়ম-দুর্নীতি করে এ কাজগুলো করে যাচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই । তাই আমি নিজেই লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের পর থেকেই হুমকি-ধামকিসহ নানাভাবে আমাকে ম্যানেজের করার চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন। এছাড়া নির্দিষ্ট চুক্তি মোতাবেক কাজের সময় শেষ হলেও এখনও খোয়া ফেলানোই শেষ হয়নি।’
একই গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, ‘এলাকাবাসীর চাপে নির্মাণাধীন সড়কের যে অংশ থেকে ইট তুলে ফেলেছিল। সুযোগ বুঝে আবারও সেখানে ওই ইট ফেলেছে। সময় মতো কাজটি শেষ না হওয়ায় খোয়া বিছানো সড়কে চলাচল করতে ভোগান্তি হচ্ছে।’
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নওশা মণ্ডল বলেন, ‘শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সড়কের কাজ করে আসছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসীর দাবি না মেনেই এসব কাজ করেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকালে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং কাজ দেখতে পাওয়া যায়। এসময় কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপস্থিতে চলমান কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘তরফবাজিত গ্রামের সড়কটিতে থেমে থেমে কাজ চলছিল। নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কয়েকবার নিষেধ করেও কাজ বন্ধ করেনি ঠিকাদার। এ নিয়ে পরে বাধ্য হয়েই উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। পরে এলাকাবাসী একজোট হয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়।’
এ ব্যাপরে ইনটেক্স ইন্টারনেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জাহিদ অনিয়ম ও নিম্নমানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আর পাকা করার জন্য যেসব পণ্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তার গুণগতমান আগেই যাচাই-বাছাই করেছেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাদুল্যাপুরে উপজেলা প্রকৌশলী মাজাহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সহকারী উপ-প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, ‘আগে বিটুমিন না দিয়ে কার্পেটিং করার সময় বিটুমিন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পিচ কার্পেটিং করার ৫-৭ দিন না হলে তা উঠে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে সঠিকভাবে কাজ করা না হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’