ঘূর্ণিঝড় ফিথাইয়ের প্রভাবে গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত থেকে হওয়া গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা বাতাসের প্রভাবে নীলফামারীতে জেঁকে বসেছে শীত। শীতে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবন বিপযর্স্ত হয়ে পড়েছে।
শহর বা গ্রাম কোথাও কাজ ছাড়া ঘর থেকে খুব একটা বের হতে দেখা যায়নি শ্রমিকদের।
তবে জীবিকার তাগিদে যারা ঘর ছেড়ে বের হয়েছেন তারাও তেমন আয় করতে পারছেন না। কারণ মানুষের চলাচল একদম কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
নীলফামারী পৌরশহরের বড় বাজার ট্রফিক মোড় এলাকার রিকশাচালক মতিলাল রায় (৪৬) বলেন,‘সকাল ১১টার দিকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। এখন বিকাল ৫টা বাজে মাত্র ২৫০ টাকা রোজগার হয়েছে। ঠাণ্ডার কারণে মানুষ বের হচ্ছে না রিকশায়ও চড়তে চাইছে না। ভাড়ায় রিকশা চালাই, রিকশা মালিককে দিতে হবে ৩০০ টাকা। এখনও রিকশার ভাড়াই যোগার হয়নি। পরিবারের ৬ সদস্যের জন্য এক কেজি চালও যোগার হয়নি। দিন শেষে তাদের মুখে ভাতও তুলে দিতে পারবো না মনে হয়।’
কালিতলা মোড়ের রিক্সাচালক আব্দুর রাজ্জাক (৪৭) ও মতিয়ার রহমান (৩৪), বলেন, সকাল ১০টার দিকে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি এখন পর্যন্ত ৭০ টাকা রোজগার করেছি। মালিককে দিতে হবে ১৫০ টাকা। ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আজ পরিবার নিয়ে উপোস থাকতে হবে মনে হচ্ছে।
আবু বক্কর সিদ্দিক (২৮) বলেন, আজকের আবহাওয়াটা একটু পরিবর্তন হলেও ঠান্ডা বাতাসের জন্য রিকশা নিয়ে স্ট্যান্ডে বসে আছি, এখন পর্যন্ত কানাকড়ির মুখও দেখি নাই। আর ঘণ্টাখানেক দেখে বাড়ি চলে যাব। শহরে একেবারেই লোকজন কম চলাচল করছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে মুরগী হাঁটির এলাকার চায়ের দোকনাদার রবিউল ইসলাম (৩২) বলেন,‘গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নেমেছে ঠাণ্ডা। সকাল ১১টার দিকে দোকান খুলেছি। এখন (বিকাল ৩ টা) পর্যন্ত মাত্র ৩০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এমপি ইলেকশনের প্রচার-প্রচারনা চলছে, এই সময় মানুষের আনাগোনা শহরে বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বৃষ্টি আর ঠাণ্ডার কারণে আজ শহরের মানুষের উপস্থিতি কম। যার কারণে আজ বেচা বিক্রিও কম। যে সামান্য বেচাবিক্রি হয়েছে তা পাওয়ানা দারকে (মহাজন)দিব না নিজে খরচ করবো তার হিসাব মিলাতে পারছি না।’