শনিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে সাদুল্যাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শতাধিক নামীয় ও পৌনে দুই শতাধিক অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে কয়েক দফায় পুলিশ আসামি গ্রেফতারের নামে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে পুলিশ রেজাউল করীম রেজার বাড়ি ও চাতালসহ তরফবাজিত গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ির গেট, দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার রেজাউল করীম রেজার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোছা. রুলিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতে-দিনে পুলিশ বারবার বাড়িতে আসছে। বাড়িতে পুরুষ না থাকায় দরজা-জানালা, লাইট, ঘরের বেড়া ভাঙচুর করছে পুলিশ। বাড়িতে থাকা নারীদের গালিগালাজ করে গ্রেফতারের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ।’ এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পুলিশ নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অপরদিকে, পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে তরফবাজিত গ্রামসহ আশপাশ এলাকায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেফতার ভয়ে রেজার মোড়ের সব দোকানপাট বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাদুল্যাপুর শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ব্যবসায়ী রাজু মিয়ার অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের কারণে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্রেফতার ভয়ে বাড়িতেও থাকতে পারছেন না তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।
এর আগে, শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সাদুল্যাপুর-মীরপুর সড়কের তরফবাজিত এলাকার রেজা চাতাল সংলগ্ন (নলডাঙ্গা মোড়) এলাকায় জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডলের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক বৃদ্ধা আহত হন। এতে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর হামলা করেন স্থানীয়রা। হামলায় সাদুল্যাপুর থানার এসআই হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল আবদুল কাফী এতে আহত হন।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশেদুল ইসলাম বলেন‘, ২৮৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।’ তবে আসামি গ্রেফতারের নামে বাড়ি ভাঙচুর ও নারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।