শিক্ষকদের কর্মবিরতি: অনিশ্চয়তায় হাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা

হাবিপ্রবিদিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দেড় শতাধিক শিক্ষক। এতে করে আগামীকাল শনিবার (২০ জানুয়ারি) থেকে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলছেন, সমস্যা হলেও ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত সহকারী অধ্যাপকরা ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক বেতন বৈষম্যের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর বিধান হালদারের কক্ষে যান। সেখানে তাদের ওপর হামলা হলে সেদিন থেকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত ও নারী শিক্ষিকদের শ্লীলতাহানিকারীদের বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার বহিস্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াই শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক আন্দোলনে থাকায় অধিকাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থার। এর আগে সংকট নিরসনে গত ১০ জানুয়ারি দিনভর আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দুই দিনের এই সভাতেও উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষকরা সংকট নিরসনে প্রশাসন সুরাহা করবেন এমন আশায় থাকার পরেও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে দেশের ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু হাবিপ্রবিতে সংকটাবস্থার কারণে এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি ভর্তি পরীক্ষা। ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন করা হয়েছিলো গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু ১৪ নভেম্বর থেকে অব্যাহত শিক্ষক আন্দোলনের ফলে ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এমন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াইশ’ শিক্ষকের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এই ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় হাবিপ্রবি’র ২০০৫টি আসনে ভর্তির জন্য অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ১২ হাজার ১৯২ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান এই সংকটাবস্থায় হাবিপ্রবিতে ভর্তিচ্ছু ১ লাখ ১২ হাজার ১৯২ জন শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় জানান, ‘প্রশাসন দাবিদাওয়াকে গুরুত্বারোপ না করায় সহকারী অধ্যাপকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সদস্য প্রফেসর ড. মমিনুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান আন্দোলনের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলেই শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবেন।’

এ ব্যাপারে হাবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন না করার বিষয়টি জানি না, কোনও কাগজ পাইনি। তবে আন্দোলনরতরা ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন না করলেও পরীক্ষা হবে। তবে সব শিক্ষকদের অংশগ্রহণ করাটা জরুরি, না হলে কিছুটা সাফার হবে। তারপরও ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’