প্রতারণার ফাঁদে পড়ে পরীক্ষা দেওয়া হলো না ৫১ পরীক্ষার্থীর

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০১৯নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে পরীক্ষায় দিতে পারেনি ৫১ এসএসসি পরীক্ষার্থী। যথা সময়ে তাদের প্রবেশপত্র না দেওয়ায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত হলো, উপজেলার প্রজাপ্রতি স্কুলের পরিচালক শাকিল আহমেদ এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসেন।

ওই ৫১ পরীক্ষার্থী সৈয়দপুর উপজেলার সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি’র নির্বাচরি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়  প্রজাপ্রতি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাকিল আহমেদ।

পরীক্ষার্থীদের বলা হয়, তারা দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নওখৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এজন্য প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ ১০-১২ হাজার করে টাকা নেন শাকিল আহমেদ। শনিবার (২ ফেব্রয়ারি) এসএসসি পরীক্ষার দিনও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ৫১ জনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করে এবং শাকিলের বাড়ি ঘেরাও করে। অভিযোগ পাওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষকদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলে, ‘আমি সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীয় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় এসএসসির ফরম পূরণ করতে পারেনি। পরে বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে খবর পাই শাকিল আহমেদ বিশেষ ব্যবস্থায় অকৃতকার্যদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগে করে দিচ্ছেন। অন্যদের মতো আমি তার সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে বলেন, তুমি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নওখৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এজন্য ১২ হাজার টাকা দিতে হবে ফরম পূরণের জন্য। আমি তাকে ১০ হাজার টাকা দেই।’

নাসির আরও বলেন, ‘আমার মতো নিবাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়, কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, আল ফারুক একাডেমি, সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ওবং সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৫০ শিক্ষার্থী। তাদেরও একই প্রলোভন দিয়ে প্রত্যেকর কাছ থেকে ৮-১২ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

শাকিল বলেন, ‘অকৃতকার্য ওই ৫১ জনকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নওখৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করানো হয়। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড তা অনুমোদন না করায় তাদের প্রবেশপত্র আসেনি। এজন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেকের টাকা ফেরত দিতে চেয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতারণার শিকার ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগপত্র দেওয়ার পর সৈয়দপুর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।’

সৈয়দপুর থানার ওসি শাহজাহান পাশা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রাতেই প্রজাপ্রতি স্কুলের পরিচালক শাকিল আহমেদ এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।