সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার (তত্বাবধায়ক), সহকারী মেডিক্যাল অফিসার ও পাঁচটি সহকারী সার্জনের পদ গত কয়েক বছর থেকে শূন্য রয়েছে। দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাকেই রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে তিনিও সারা সপ্তাহে চিকিৎসা দিতে পারেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে নারীদের জন্য ৯টি ও পুরুষদের জন্য ১৮টি বেড রয়েছে। পাশাপাশি একটি কেবিন ও কলেরা-ডায়রিয়া রোগীর জন্য দুটি কেবিন রয়েছে। ২৪৭টি পদের মধ্যে বর্তমানে ১১৫টি পদে লোকবল আছে। গুরুত্বপূর্ণ ১৩২টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় হাসপাতালের প্রধান সহকারী সারাফত হোসেন জানান, চিকিৎসকের সাতটি পদের মধ্যে শুধুমাত্র ডিএমও ছাড়া সবকটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সিস্টার ইনচার্জের দুটি, স্টোর কিপার, প্রধান সহকারী, টাইপিস্ট, ল্যাব- অ্যাসিসট্যান্ট, উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, পিয়ন জমাদার, কুকের দুটি, মালি, এক্স-রে এটেনডেন্ট, এমএলএসএস, ওটি অ্যাসিসট্যান্ট, সেনেটারি পরিদর্শকের দুটি ও এক্স-রে এটেনডেন্ট পদ বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে।
এছাড়া জুনিয়র নার্সের ৩টি পদের মধ্যে একটি, ফার্মাসিস্টের ১০টি পদের মধ্যে সাতটি, সিনিয়র নার্সের ১০টির মধ্যে পাঁচটি, মশালচির দুটির মধ্যে একটি, চৌকিদারের চারটির মধ্যে দুটি, পরিচ্ছন্নতা (হাসপাতাল) কর্মীর ১১টির মধ্যে দুটি, ওয়ার্ড এটেনডেন্টের ১৯টির মধ্যে সাতটি, কনজারভেন্সি খালাসীর ছয়টির মধ্যে পাঁচটি, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর (কনজারভেন্সি) ১৪৭টির মধ্যে ৮৬টি ও ড্রেসারের তিনটির মধ্যে দুটি পদ শূন্য রয়েছে।
রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুস সোবহান (৮০) হাসপাতালটিতে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালটি বন্ধ করে দিলে সরকারের আর টাকা অপচয় হতো না। আর যদি স্বাস্থ্যসেবা দিতে চায়, তবে ভালোভাবে দিতে হবে।’
লালমনিরহাট রেলওয়ের খালাসী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালটিতে নারীদের জন্য গাইনি চিকিৎসক নেই। এ চিকিৎসা বাইরে থেকে নিতে হয়। এখানে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের নারী সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি। আশা করি, সরকার নারীদের কথা বিবেচনা করবেন।’ একই দাবি জানান, রোগী অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সাব অ্যাসিসট্যান্ট প্রকৌশলী মো. মোস্তফা ও রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মী হাফিজুল ইসলাম।
লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালের ডিভিশনাল মেডিক্যাল অফিসার (ডিএমও) ডা. মো. আনিছুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ে পুলিশ যেমন পুলিশ বিভাগের অধীনে থেকে সেবা দিচ্ছে। একই পদ্ধতিতে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালটি রেলওয়ের অধীনে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিয়ে সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এ জন্য হাসপাতালটিতে বৃটিশ আমলের মঞ্জুরিকৃত পদগুলো ঢেলে সাজানো দরকার। এতে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার যে মূল লক্ষ্য তা বস্তাবায়ন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ওষুধের জন্যই মূলত আসেন। ইনডোরের চিকিৎসা সেবার অবস্থা ভালো নয়। বলতে গেলে রোগীই ভর্তি থাকে না। এজন্য হাসপাতালটিতে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি।’
জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুই-তিন জন চিকিৎসক আমরা শিগগিরই পাবো। তারা যোগ দিলে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে। জনবল বাড়ানোর জন্য প্রতিমাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে হাসপাতালটি সচল হয়ে উঠবে।’