হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় সাত হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উপজেলাজুড়ে এখন চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ।
হিলির জালালপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন, জাহাঙ্গির হোসেন ও মিনহাজুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও তাদের কোনও লাভ হচ্ছে না। কারণ ধানের দাম নেই। বীজতলা থেকে শুরু করে, ধান লাগানো, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক প্রয়োগ, পানিসহ ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত এক মণ ধানে কৃষকের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮শ’ টাকার মতো। বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে প্রকারভেদে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা দরে, তারপরেও কেউ ধান নিতে চাচ্ছে না। এতে করে প্রতি মণ ধানে দুই থেকে তিনশ’ টাকার মতো লোকশান গুনতে হচ্ছে তাদের।
তারা আরও জানান, সরকার এবার প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিনছে না। সরকার যদি ধান কিনতো তাহলে কৃষকরা ধানের দাম পেতো, লাভবান হতে পারতো।
হিলির ছাতনি চারমাথা মোড়ের ধানের আড়তদার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকার ধান কেনার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত ধান না কেনায় মোকামগুলোতে ধানের তেমন চাহিদা নেই। কেউ ধান নিতে চাচ্ছে না। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক করে ধান দিতাম এখন সেখানে ১ থেকে ২ ট্রাক করে ধান নিচ্ছে। বর্তমানে চিকন জাতের ধান ৬০০ থেকে ৬৪০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। তবে সরকার ধান কেনা শুরু করলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় সাত হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে।’
তবে কৃষকরা ধানের দাম কম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।
হিলি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাকিমপুর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২১৫ মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ পেয়েছি। স্থানীয় কৃষি অফিস ধানের উৎপাদকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কৃষকদের তালিকা পাওয়ার পর ক্রয় কমিটির মিটিং হবে। এরপরে এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে অচিরেই ধান কেনা শুরু হবে। বলে তিনি জানিয়েছেন।