লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ বেড়ে বিপদ সীমার ১০-২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে লালমনিরহাট ও ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
পানি পরিমাপক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ জানান, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৬টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি প্রবাহের পরিমাপ করা হয়েছে। তখন তিস্তার পানি প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ তিস্তার পানি এখন বিপদ সীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রাণী রায় বলেন, ‘বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের তালিকা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে কিছু লোককে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।’
ডালিয়া, লালমনিরহাট ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, গত ৮ জুলাই সোমবার থেকে রংপুর অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি ও উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার গোড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, ডাউয়াবাড়ী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, পঞ্চগ্রাম ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তাদের বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও গো খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর চর এলাকায় ত্রাণ বিতরণের কথা জানিয়ে বলেন, ‘এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের তালিকা তৈরিরসহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’