ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক মো. নূরুল ইসলাম জানান, ডালিয়া পয়েন্টে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সবক’টি (৪৪) স্লুইসগেট খুলে দিয়েছে পাউবো।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তায় পানি বাড়ায় নীলফামারীর ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়াবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছচাপানী ও গয়াবাড়ী এবং জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৪টি চর ও গ্রামের ১২ হাজার পরিবার বন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া পাশের লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চর ও চরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
ডিমলা টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নূল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সোমবার (৮ জুলাই) ভোররাত থেকে তিস্তার পানি ওঠানামা শুরু করে। এতে ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, টাপুরচর, ঝিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।’
এ উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, সতিঘাট ও ছোটখাতা গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। এরমধ্যে ছোটখাতা গ্রামের ৪০০-৫০০ পরিবার ও বাইশপুকুরে ৪০-৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার মুন জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় তার উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার্তদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে ও দুর্গতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিস্তার পানির বিপদসীমা অতিক্রম হলেও মানুষজন নিরাপদে আছে। জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে চর ও চরের গ্রামগুলোতে মাইকিং করে লোক সরিয়ে নেওয়া হবে।