জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার (১৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সৃষ্ট বন্যায় জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার পরিবারের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এছাড়া ১ হাজারেরও বেশি পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছেন। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৪শ ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরেজিমন দেখা গেছে, সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাড়াও যাত্রাপুর, পাঁচগাছী, হলোখানা ও ঘোগাদহ ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি। এছাড়াও ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, রাজারহাট ও চিলমারীতেও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন মানুষজন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চরবাড়াইবাড়ী এলাকার জ্যোৎস্না বেগম জানান, তিন দিন ধরে পানিবন্দি। বাড়িতে রান্না করার মতো কোনও শুকনো স্থান নেই। প্রতিদিন সকালে পানি ভেঙে অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করে এনে স্বামী সন্তানসহ সেই খাবার তিন বেলা খাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে কাজের অভাবে স্বামী মতিয়ার রহমানের রোজগার বন্ধ থাকায় খাবার জোগাড়ের অর্থও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
নিজ ইউনিয়নের বন্যাদুর্গতদের জন্য আড়াই মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন জানিয়ে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘আড়াই মেট্রিক টন চাল মাত্র আড়াইশ পরিবারের মাঝে বণ্টন করা হবে। বাকি বন্যার্তরা কি খাবেন? এদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের বন্যা কবলিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তার ধারে ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন।
সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তি প্রসঙ্গে এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘আড়াই টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এগুলো আগামীকাল থেকে বিতরণ করা হবে।’
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ২৮০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাহিদা দেওয়া হয়েছে।