আহত নেতাকর্মীরা হলেন—উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জয় হাসান, কর্মী শিপলু ও মিলন। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। মারধরের শিকার ইউপি সদস্য হলেন মো. মজিবর রহমান।
মজিবর রহমান বলেন, ‘শনিবার (২৭ জুলাই) উপজেলা প্রকৌশলী দফতর সমন্বয়ক মো. সামসুল আলমকে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নারী নিয়োগের জন্য তালিকা দিই। পরদিন সকালে অফিসে গিয়ে দেখি, তালিকায় আমার দেওয়া নামগুলো নেই। এ বিষয়ে সামসুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষেপে যান। তখন দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে ওই দিন রাতে মেহেদি হাসান ও জয় হাসানসহ ছাত্রলীগের ১০-১২ জনের একটি দল বড়ভিটা বাজারে আসেন এবং আমকে মারপিট করেন। তখন উপস্থিত জনতা ওই নেতাকর্মীদের গণপিটুনি দেন। এ সময় স্থানীয় আজিজার রহমান ও হাবিবুর রহমান প্রামাণিক তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও গণপিটুনির শিকার হন। স্থানীয় জনতা তাদের চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশ এসে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমার ভাই মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার দেখিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পুলিশ উদ্ধার করতে আসলে শত শত মানুষ সড়কের পাশে কাটা গাছ বিছিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরে কুড়িগ্রাম জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে আহত হন—আজিজার রহমান মাস্টার, হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, এরশাদুল হক ভুট্ট, বেলাল হোসেন, একরামুল হক, বাদল, বাচ্চু, জবদুল, রহিদুল, জলিল, নবাব আলী, রাশেদুল হকসহ আরও অনেকে।
গণপিটুনির শিকার মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমরা শুধু মেম্বার সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ফুলবাড়ীতে কী হয়েছিল। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ওপর বাজারের লোকজন চড়াও হন।’
এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসিফ ইকবাল জানান, ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নারীদের নামের তালিকা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। চেয়ারম্যানের এ ঘটনার জন্য দায় আছে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, ‘আমরা চার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’