সাঁওতাল পল্লীতে হামলা: চার্জশিটে প্রকৃত আসামিদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ

সাঁওতালদের বিক্ষোভগাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে হামলা মামলার চার্জশিটে মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িত আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাঁওতাল সদস্যরা। এর প্রতিবাদে ও ফের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন তারা। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা শহরের ১নং ট্রাফিক মোড়ে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এরআগে, গোবিন্দগঞ্জের মাদারপুর-জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লী থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে সাঁওতাল নারী-পুরুষরা গাইবান্ধায় পৌঁছান। বিক্ষোভ-সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় গাইবান্ধা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে সাঁওতাল সদস্যরা অভিযোগ করেন, সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত। ঘটনার দিন তাদের শতশত বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ওই ঘটনায় তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। আগুন ও হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট। এছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের কাছেও চিহ্নিত তারা। ৩৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়। কিন্তু মামলার দুই বছর আট মাস পর মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িত আসামি এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের নাম আড়াল করে চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই। মূলত প্রভাবশালী আসামিদের সঙ্গে আঁতাত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এছাড়া ওই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় মিথ্যাভাবে সাঁওতালদের ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলেরও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের দাবি, হামলা ঘটনার সঙ্গে মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, চিনিকলের এমডি আবদুল আউয়াল, তৎকালীন ইউএনও, ওসি, পুলিশ সদস্যসহ সরাসরি জড়িত আসামিদের নাম চার্জশিটে আনতে হবে। এজন্য দ্রুত পূর্ণ তদন্তের দাবি জানান তারা।

এরআগে, গত রবিবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে ৫০ পাতার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- মাহিমাগঞ্জ সুগার মিলের কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুল, ইউপি সদস্য শাহ আলম ও আইয়ুব আলী। অভিযুক্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। তবে তারা সবাই এখন জামিনে আছেন।