ট্রেনের এসি বগিতেই শুধু মশার স্প্রে!

ঢাকা থেকে আসা আন্তঃনগর ট্রেন৪/৫ দিন ধরে ৯ বছরের আরাফাত জ্বরে ভুগছে। পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরও তার জ্বর সারেনি। পরে রংপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। আরাফাতের বাবা পার্বতীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আতিকুজ্জামান বলেন, ‘আমার ছেলে, আমি কিংবা আমার পরিবারের কোনও সদস্য গত এক বছরেও ঢাকায় যায়নি। এরপরও কীভাবে ওর ডেঙ্গু হলো?’ আতিকুজ্জামান পরিবার নিয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে উপজেলা পরিষদ কোয়ার্টারে থাকেন। তার ধারণা, আন্তঃনগর ট্রেনের মাধ্যমে রাজধানী থেকে এডিস মশা এসেছে। সেই মশার কামড়েই তার ছেলের ডেঙ্গু হয়েছে।

আতিকুজ্জামানের ধারণার সূত্র ধরেই শুক্রবার (২ আগস্ট) দিনাজপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তঃনগর ট্রেনের এসি বগি ছাড়া মশকনিধন ওষুধ স্প্রে করা হয় না। এছাড়া ট্রেনের বগিগুলো নোংরা আবর্জনায় ভর্তি।

মশকনিধনের ওষুধ স্প্রে না করার কথা স্বীকার করেছেন ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ফলে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনের মাধ্যমেও সারাদেশে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা আন্তঃনগর ট্রেনশুক্রবার পঞ্চগড় এক্সপ্রেস থেকে দিনাজপুর রেলস্টেশনে নামা মাহবুবা সরকার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সন্তান নিয়ে কমলাপুর থেকে তিনি এই ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে কোনও মশকনিধন ওষুধ স্প্রে করা হয়নি। বগিতে মশার ব্যাপক উৎপাত ছিল। তাই বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কয়েল কিনে তা জ্বালিয়ে রাখেন সারা রাস্তা। এছাড়া বগি অপরিষ্কারও ছিল। এভাবে থাকলে ঢাকা থেকে সারাদেশে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একই ট্রেনের যাত্রী আবুল হোসেন জানান, ট্রেনের এসি বগিগুলোতে স্প্রে করা হলেও সাধারণ বগিগুলোয় মশকনিধনের কোনও ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে না। ফলে ট্রেনভর্তি মশা নিয়ে ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে ছাড়ছে।

যাত্রীদের এসব কথা স্বীকার করেন ট্রেনে দায়িত্বরত রেলওয়ের কর্মকর্তারাও। পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের রেলওয়ে পরিচর্যক অবন্তী ভূষণ জানান, ট্রেনে মশকনিধন স্প্রে করার বিষয়টি তার চোখে পড়েনি এবং এটি তার জানাও নাই।

একই ট্রেনের পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, ট্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আর মশকনিধন ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে শুধু এসি বগিগুলোয়।

ঢাকা থেকে আসা আন্তঃনগর ট্রেনে আসা যাত্রী

দিনাজপুর রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘রেলওয়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আমাদের কর্মীরাই করেন। কিন্তু মশানাশক স্প্রে কে করবে এটা আমার জানা নেই। ট্রেন ঢাকা থেকে ছাড়ে, তাই ঢাকার লোকজন এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’

দিনাজপুর এম. আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু খইরুল কবির জানান, কয়েকদিন পরেই ঈদ। ওই সময় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা থেকে আসবেন লোকজন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মশা চলে আসতে পারে এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোয় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে করে ওইসব যানবাহনে মশানাশক স্প্রে করা হয়।