আতিকুজ্জামানের ধারণার সূত্র ধরেই শুক্রবার (২ আগস্ট) দিনাজপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তঃনগর ট্রেনের এসি বগি ছাড়া মশকনিধন ওষুধ স্প্রে করা হয় না। এছাড়া ট্রেনের বগিগুলো নোংরা আবর্জনায় ভর্তি।
মশকনিধনের ওষুধ স্প্রে না করার কথা স্বীকার করেছেন ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ফলে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনের মাধ্যমেও সারাদেশে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই ট্রেনের যাত্রী আবুল হোসেন জানান, ট্রেনের এসি বগিগুলোতে স্প্রে করা হলেও সাধারণ বগিগুলোয় মশকনিধনের কোনও ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে না। ফলে ট্রেনভর্তি মশা নিয়ে ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে ছাড়ছে।
যাত্রীদের এসব কথা স্বীকার করেন ট্রেনে দায়িত্বরত রেলওয়ের কর্মকর্তারাও। পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের রেলওয়ে পরিচর্যক অবন্তী ভূষণ জানান, ট্রেনে মশকনিধন স্প্রে করার বিষয়টি তার চোখে পড়েনি এবং এটি তার জানাও নাই।
একই ট্রেনের পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, ট্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আর মশকনিধন ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে শুধু এসি বগিগুলোয়।
দিনাজপুর রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘রেলওয়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আমাদের কর্মীরাই করেন। কিন্তু মশানাশক স্প্রে কে করবে এটা আমার জানা নেই। ট্রেন ঢাকা থেকে ছাড়ে, তাই ঢাকার লোকজন এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’
দিনাজপুর এম. আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু খইরুল কবির জানান, কয়েকদিন পরেই ঈদ। ওই সময় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা থেকে আসবেন লোকজন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মশা চলে আসতে পারে এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোয় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে করে ওইসব যানবাহনে মশানাশক স্প্রে করা হয়।