ঈদে নীলফামারীতে পশু ঘাটতি রয়েছে সাড়ে তিন হাজার

কোরবানির ঈদে নীলফামারীতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পস্তুত করা হয়েছে

নীলফামারীর ছয় উপজেলায় ৫৮ হাজার ১২০টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তত করা হয়েছে। গত বছরের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৬৯৯টি। সেই হিসেবে এবার ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৭৯টি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী পশু ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য জেলায় এবার দেশীয় পদ্ধতিতে ৫৮ হাজার ১২০টি পশু তৈরি করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে কম। এবার খামারি ও গৃহস্থবাড়িতে কোরবানির পশু তৈরি কম হলেও ঈদে এর প্রভাব পড়বে না বলে আশা করছি।’

গবাদি পশুগুলো সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা ওষুধের অপব্যবহার ও রাসায়নিক খাবার বর্জনের জন্য খামারিদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি তারা রোগাক্রান্ত পশু কিংবা কোরবানির অনুপযোগী গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয় না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এছাড়াও ওষুধের দোকানগুলো যাতে নকল ওষুধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করতে না পারে সে দিকটাও দেখা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ধারণা, গতবারের চেয়ে এবার কোরবানি দেওয়ার সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। বাজারে যে পরিমাণ গরুর চাহিদা আছে, তা আমাদের তৈরি গরু দিয়ে মেটানো সম্ভব। 

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ২৭ হাজার ৬০টি, ২০১৫ সালে ২৯ হাজার ৩৪০টি এবং ২০১৬ সালে ৩৮ হাজার ৩৭৮টি পশু কোরবানি হলেও ২০১৭ সালে গরু, ছাগল ও ভেড়া মিলে ৬১ হাজার ৬৬৭টি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে জেলার ছয় উপজেলায় কোরবানির ঈদে ৬১ হাজার ৬৯৯টি পশু প্রস্তুত ছিল।

২০১৯ সালে প্রস্তুত পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ১২০টি। গতবারের তুলনায় ৩ হাজার ৫৭৯টি পশু কম রয়েছে। পশু খাদ্যের দাম ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বার বার বন্যা আক্রান্ত হওয়ায় দিন দিন খামারির সংখ্যা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ‘উপজেলাভিত্তিক একটি করে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রত্যেক উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। টিমগুলো খামারি ও হাট কর্তৃপক্ষকে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।’

জেলা শহরের সবুজপাড়া মহল্লার আবদুর রশিদ মুক্তির খামারে গিয়ে ছোট বড় নানা ধরনের কোরবানির পশু দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘আসছে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ১৭টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেছি। এবার ভারতের গরু ছাড়াই আমাদের দেশীয় গরু দিয়ে কোরবানির হাট-বাজারগুলো কানায় কানায় ভরে যাবে।’

সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছরই কোরবানির জন্য ২৫-৩০টি দেশীয় প্রজাতির গরু পালন করে থাকি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে খাদ্যের দাম, খড় ও কাজের লোকের হাজিরা সব মিলে একটি গরুর পেছনে যে ব্যয় হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হবে।’

সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. হামিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর যে দামে গরু বিক্রি হয়েছে, এবার তার চেয়ে দ্বিগুণ দামে কেনাবেচা হবে। এটা হলেই খামারি ও ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় যাতে ভারতীয় গরু আমাদের দেশীয় বাজারে বৈধ বা অবৈধভাবে না আসে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। তাহলে কোরবানির বাজারে সুস্থ  পশু কেনাবেচা করে খামারিরা লাভবান হতে পারবেন।’