গাইবান্ধায় হাতকড়া পড়া অবস্থায় চিনু মিয়া নামে হত্যাসহ ১৮টি মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তার সহযোগীরা। বুধবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথ গ্রামের বাঁধের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এসময় আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে থানা গোবিন্দগঞ্জ থেকে অতিরিক্তি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
এসময় নুর আলম ও তাজনুর রহমান নামে চিনু মিয়ার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। ছিনিয়ে নেওয়া আসামি চিনু মিয়া (৩৮) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথ গ্রামের মৃত নুরু ইসলামের ছেলে। আটক নুর আলম ও তাজনুর রহমান একই গ্রামের বাসিন্দা।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি একেএম মেহেদী হাসান জানান, চিনু মিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, হত্যা চেষ্টা, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতাসহ ১৮টি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। আদালত তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে চিনুকে গ্রেফতার করে। হাতকড়া পড়িয়ে চিনুকে গাড়িতে করে থানায় আনার সময় তার সহযোগী ও স্বজনরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় তারা বাঁধের ওপর লাঠিসোডা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান নেয়। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা গুলি ছুড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিনুর সহযোগী নুর আলম ও তাজনুরকে আটক করে।
তিনি আরও জানান, আসামি চিনু জ্বীনের বাদশা প্রতারক চক্রের একজন মূল হোতা। আটক নুর আলম ও তাজনুর সম্পর্কে চিনুর চাচাতো ও মামাতো ভাই। চিনুর নেতৃত্বে গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন। চিনুসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যহত আছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।