ধর্মপাল ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের রশিদপুর গ্রামের সাদেকুল ইসলামের স্ত্রী লুনা বেগম, ছয় নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধর্মপাল সরকার পাড়া গ্রামের ফেরদৌসী বেগমের বাবা আব্দুল গনি ও একই গ্রামের স্বপ্না বেগমের স্বামী বেলাল হোসেনের সঙ্গে কথা এই প্রতিনিধির। তাদের অভিযোগ, তারা ২০১৬-১৭ সালের তালিকাভুক্ত উপকারভোগী। পরপর দুই বছরে ৬ হাজার করে মোট ১২ হাজার টাকা পেলেও শেষ বছরের ৯ হাজার ৬শ টাকা পাননি। গত জুন মাসে টাকা পাওয়ার কথা ছিল। ব্যাংকে টাকা আসার কথা শুনেছেন। কিন্তু, টাকা তুলতে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের টাকা তুলে নিয়ে গেছে। ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম এবং সামসুল হকের সঙ্গে কথা হলে তারা কোরবানির ঈদের পরে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন তাদেরকে। এখন টাকা চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন। এভাবে অনেকের টাকা লোপাট করা হলেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।
তাদের অভিযোগ, এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সামসুল হক এবং ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল হক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের ভাতার টাকা তুলে নিয়েছেন।
ইউপি সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কেন তাদের টাকা তুলবো? তারাই নিজেদের টাকা নিজেরাই তুলেছেন।’
ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পুরবী রানী রায় বলেন, ‘উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে আমরা টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। ওই টাকা পরিশোধের বিষয়টি ব্যাংকের। সেখানে আমার কিছু করার নেই।’
সোনালী ব্যাংক মীরগঞ্জহাট শাখার ব্যবস্থাপক পঙ্কজ কান্তি রায় বলেন, ‘আমি কোনও অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি জানলাম, দেখবো।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।’
উল্লেখ্য, জেলার ৬০টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৯ জন মা ওই সুবিধা ভোগ করছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক দফতর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এসব উপকারভোগীর টাকা পরিশোধ করে থাকে। পুষ্টিকর খাবারের জন্য প্রতি মাসে জনপ্রতি ৮০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। ধর্মপাল ইউনিয়নে ১৬৩ জন এই ভাতা পান।