সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া দামে বিক্রি

জমিতে সার দিচ্ছেন কৃষকনীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের পাটোয়ারী পাড়া গ্রামের কৃষক শুকান্ত রায় এবার ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এক হাজার টাকার বস্তা থেকে ১০ কেজি ইউরিয়া, এক হাজার ৪০০ টাকা বস্তা দরে ১৪০ টাকায় পাঁচ কেজি টিএসপি এবং এক হাজার টাকা বস্তার দরে ১০০ টাকায় পাঁচ কেজি পটাশ সার কিনে জমিতে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধানের দাম নাই। সারের দাম বেশি। এমনটা হলে কৃষক বাঁচবে কেমন করি।’

শুধু সুকান্ত রায় নয়, নীলফামারীর বেশিরভাগ কৃষকেই চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। ডিলারদের দাবি,মাঠ পর্যায়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন,ডিলার দাম বেশি নিচ্ছেন। এজন্যই তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন।

জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া কাছাড়ী বাজারের খুচরা পাইকার জুলফিকার আলী বলেন, ‘আমি ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে এনে বিক্রি করি। তারা যখন যে দাম ধরেন সেখান থেকে একটু লাভ করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করি। তাছাড়া জেলা শহর থেকে গ্রামের বাজারের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। এখানে ভ্যান ভাড়া, কুলি খরচ ও সার গলে গিয়ে ওজনে কম হয়। তাই সবকিছু মিলে বেশি দামে বিক্রি করছি।’

ওই ব্যবসায়ী প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১০০০ টাকা, টিএসপি দেড় হাজার টাকা এবং পটাশ ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান।

একই বাজারে খুচরা সার ব্যবসায়ী গুলজার রহমান বলেন, ইউরিয়া সার ৯৭০ থেকে এক হাজার, টিএসপি এক হাজার ৪৮০, পটাশ ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার কৃষক বুলবুল মিয়া বলেন, ‘সার ব্যবসায়ীরা যে যার মতো একচেটিয়া ব্যবসা করছে। আড়াই বিঘা জমিতে একবার সার দিতে খরচ হলো প্রায় এক হাজার ১৮৫ টাকা। ওই জমিতে ধান আসা পর্যন্ত আরও দু’বার সার দিতে হয়। বাজার দেখার কেউ নেই। সারের বাজারে হরিলুট শুরু হয়েছে।’

জমিতে সার দিচ্ছেন কৃষকসার ডিলার তাপস কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা সরকারি দরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া ৮০০ টাকায়, টিএসপি এক হাজার ১০০ টাকায়, পটাশ ৭০০ টাকায় বিক্রি করছি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমরা ওই দামের চেয়েও কম দামে বিক্রি করি। এখন বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী এ সুযোগ নিতে পারেন।’

জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, ‘জুলাইয়ে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম ছিল। চাহিদা থাকলে আগে আমরা বাইরের জেলা থেকে সার এনে বিক্রি করতাম। এখন ওইসব এলাকায় দাম বেশি। এবার জেলায় আমনের আবাদ বেশি হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকারি মূল্যের চেয়ে কেউ দাম বেশি নিলে তার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আজাদ বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক বাজার তদারকি করছি। দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, জেলায় এবার এক লাখ ১২ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চাষ হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে।