মৌসুমি আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে নীলফামারীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। এ কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে আগামী ৭২ ঘণ্টা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হবে। এছাড়াও কখনও কখনও দমকা বাতাসসহ বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, বৃষ্টিতে আমন ধান ও শাক সবজীর উপকার হলেও আগাম আলু আবাদের কারণে কৃষকদের চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। জেলা সদর, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও ডোমার উপজেলার উঁচু জমিগুলোতে আলু চাষ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টির কারণে শারদীয় দূর্গা উৎসব পালনে অসুবিধায় পরেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গত শনিবার বৃষ্টির মধ্যই দূর্গাপুজার মহালয়া শুরু হয়েছে। দশমির দিনও একই অবস্থা থাকলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে বলে তারা জানান। আবহাওয়ার কারণে মৃৎশিল্পীরা ফ্যানের বাতাসে প্রতিমার রংয়ের কাজ করছেন। আবার কোথাও প্যান্ডেলের শোভা বর্ধনের কাজ বন্ধ রেখেছে। কেউ ত্রিপল খাটিয়ে ভেতরের কাজ বন্ধ রেখেছেন। বৃষ্টি থামলেই কাজে হাত দিবেন এ আশায় আছেন। তবে দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ পুজামণ্ডপ কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা পুজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায় বলেন, জেলায় এবারে ৮৩৭টি পুজামণ্ডব রয়েছে। এর মধ্যে সদরে ২৭৬, ডিমলায় ৮০, ডোমারে ৯২, জলঢাকায় ১৬৫, কিশোরগঞ্জে ১৪০ ও সৈয়দপুর উপজেলা ৮৪টি পুজা মণ্ডব রয়েছে। এবার পুজা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪১৮.৫০০ মেট্রিক টন চাল। প্রতিটি মণ্ডবের জন্য ৫০০ কেজি চাল করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টির কারণে নীলফামারীসহ পাশের জেলার ফসলের মাঠে আগাম আলু চাষে চরম দুর্ভোগে পড়েছে আলু চাষিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম আযাদ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলুর বীজ বুনেছে চাষিরা। টানা বৃষ্টির কারণে আলুর বীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই আলু চাষিরা এখন দুশ্চিন্তা আছে।