কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখ টাকার চেক ফেরত দিলেন রিকশাচালক

পুলিশের কাছে চেক দিচ্ছেন মমতাজ উদ্দিন রাস্তায় দুই লাখ ৩৬ হাজার টাকার চেক কুড়িয়ে পেয়েছিলেন রিকশাচালক মমতাজ উদ্দিন (৪৬)। চেকে সইও করা ছিল। তবে চেকটি পেয়েও নিজের কাছে না রেখে পুলিশের কাছে জমা দেন। চেক পাওয়ার পর মালিক মমতাজকে পুরস্কার দিতে চাইলেও তিনি নেননি। রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে নীলফামারী সদরে এ ঘটনা ঘটে।      

নীলফামারী থানার ওসি মমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, দু’টি চেকে টাকার পরিমাণ উল্লেখ ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। চেক দু’টি ছিল অগ্রণী ব্যাংকের এবং চেকে নাম ছিল মিজানুর রহমানের।  

জানা গেছে, মমতাজ উদ্দিন ১৫ বছর ধরে রিকশা চালান নীলফামারী শহরে। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের সংসার চালান। রবিবার দুপুরের দিকে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় চেক পড়ে থাকতে দেখে মমতাজ তা তুলে নেন। বিকালে সদর থানায় গিয়ে ওসির কাছে চেক দু’টি জমা দেন।

মমতাজ বলেন,  ‘ইচ্ছে করলেই চেক দু’টির টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে পারতাম। কিন্ত ওই টাকা হালাল হতো না। প্রায় ১৫ বছর ধরে সৎভাবে রিকশা চালিয়ে রোজগার করে খাচ্ছি। তাই ওই টাকার ওপর আমার লোভ ছিল না। যার টাকা তার কাছে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’

চেকের মালিক বলেন, ‘রাস্তায় চেক দু’টি কখন পড়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও চেক পাচ্ছিলাম না। বিষয়টি ব্যাংকে জানানোর আগেই তারা আমাকে ফোন দিয়ে সদর থানায় যেতে বলেন। থানায় এসে অবাক হয়ে যাই। মমতাজ নামে একজন রিকশাচালক চেক দু’টি কুড়িয়ে পেয়ে থানায় জমা দিয়েছেন বলে জানতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ইচ্ছা করলে রিকশাচলক ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলে নিতে পারতো। আমি ওই রিকশাচালককে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চাইলেও তিনি নেননি।